সারা বাংলা

মুক্তাদীর–আরিফ–রেজা: সিলেট থেকে কার ভাগ্যে জুটবে মন্ত্রিত্ব

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা কেমন হবে এ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সিলেটও। বিভাগটির কয়েকজন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও শীর্ষ নেতা মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে আভাস মিলেছে। বিশেষ করে তিনটি নাম ঘুরেফিরে আসছে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, আরিফুল হক চৌধুরী ও রেজা কিবরিয়া।

দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন মন্ত্রিসভার একটি খসড়া তালিকা প্রস্তুত করেছেন। এ নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। সিলেটের কয়েকজন নেতাকে ইতোমধ্যে ঢাকায় ডাকা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর দীর্ঘদিন ধরেই দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে দলে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে নেতারা জানান। জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত এ আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ায় মন্ত্রিসভায় তার অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউই।

সিলেট-৪ আসন থেকে নির্বাচিত আরিফুল হক চৌধুরী টানা দুইবার সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে সক্রিয় ও সাংগঠনিক দক্ষতার জন্য পরিচিত তিনি। এবারের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ার পর তার নামও মন্ত্রিত্বের আলোচনায় উঠে এসেছে। দলীয় নেতাদের মতে, স্থানীয় সরকার বা সংশ্লিষ্ট কোনো মন্ত্রণালয়ে তাকে দেখা যেতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কিছু জানা যায়নি।

অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। তিনি প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার একাডেমিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতার কারণে অর্থ–সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পেতে পারেন তিনি। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ে তার নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে।

এদিকে সিলেটের আরো কয়েকজন নেতা মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। কেউ কেউ টেকনোক্রেট কোটায় জায়গা পেতে পারেন বলেও জানায় দলীয় সূত্র।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী বলেন, কারা মন্ত্রিসভায় থাকবেন, তা নির্ভর করছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর। অঞ্চলভিত্তিক ভারসাম্য, অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক বিবেচনাকে প্রাধান্য দিয়েই নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে।