চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত প্রাচীন তীর্থস্থান চন্দ্রনাথ ধামে শিবচতুর্দশী উপলক্ষে চলছে তিন দিনব্যাপী মেলা ও ধর্মীয় আয়োজন। শনিবার শুরু হওয়া এই আয়োজন সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত চলবে। এবার অন্য বছরের তুলনায় তীর্থযাত্রীদের উপস্থিতি অনেক কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবছর ফাল্গুন মাসের শিবচতুর্দশী তিথিতে চন্দ্রনাথ ধামে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো পুণ্যার্থী আসেন। এ বছর নির্বাচনকালীন সময়সহ নানা কারণে ভক্তসমাগম কম হয়েছে। ফলে মেলা ঘিরে দোকান বসানো অনেক ব্যবসায়ী হতাশা প্রকাশ করেছেন।
সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির সাধারণ সম্পাদক চন্দন দাস জানান, “রবিবার বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে শিবচতুর্দশী তিথি শুরু হয়ে সোমবার সন্ধ্যার পর শেষ হবে। সাধারণত এই সময় চন্দ্রনাথ ধাম পুণ্যার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকে। এবার সেই চিত্র ভিন্ন।”
এদিকে, মেলা উপলক্ষে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা জোরদার করেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। সার্বক্ষণিক মেডিকেল সেবা ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মেলা কমিটির নির্বাহী সভাপতি মো. ফখরুল ইসলাম।
ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী প্রথম দিনে পুণ্যার্থীরা সংযম পালন করেন। চতুর্দশী তিথিতে ব্রত রেখে স্নান ও তর্পণ শেষে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে অবস্থিত বিভিন্ন মঠ ও মন্দির পরিক্রমা করেন তারা। স্বয়ম্ভুনাথ ও চন্দ্রনাথ মন্দিরে শিবের মাথায় জল ঢালেন ভক্তরা। শেষ দিন অমাবস্যায় পূর্ব-পুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদান করা হয়।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২০০ ফুট উঁচু চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ওঠাই পুণ্যার্থীদের মূল লক্ষ্য। পাহাড়ি পথে উঠে বিরুপাক্ষ, ভবানী, সীতা ও হনুমান মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে পূজা দেন তারা।
মেলাকে কেন্দ্র করে দোকান বসানো শ্রী বিপ্লব প্রসার বলেন, “এ বছর ভক্ত কম হওয়ায় বেচাকেনা আশানুরূপ হয়নি।”
ভোলানন্দগিরি সেবাশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী উমেশানন্দ গিরি জানান, শিবরাত্রিতে ব্রত পালন ও ব্যাসকুণ্ডে স্নানের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির মধ্য দিয়েই পুণ্যার্থীদের তীর্থযাত্রা শুরু হয়।