জাতীয়

সংসদ সদস্যদের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে আবাসন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারি আবাসন নিশ্চিত করতে চলছে  প্রস্তুতি।

ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় অবস্থিত সংসদ সদস্য ভবন (ন্যাম), সংসদ সদস্য হোস্টেল কমপ্লেক্স ও নাখালপাড়ার সরকারি ফ্ল্যাটগুলো প্রস্তুতির কাজে ব্যস্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কোথাও রং করা হচ্ছে, কোথাও আসবাব মেরামত, আবার কোথাও চলছে বৈদ্যুতিক ও স্যানিটারি লাইন সংস্কার। তবে মিন্টু রোডের মন্ত্রী পাড়ায় এখনও নিরবতা। 

জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্র জানায়, নির্বাচনের কয়েক দিন আগেই এমপিদের জন্য পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে কাজ শুরু হয়। ভোট শেষে সেই প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হয়েছে। সংসদ ভবনেও চলছে ধোঁয়ামোছার কাজ, স্থাপন করা হয়েছে সংসদ সদস্যদের রেজিস্ট্রেশন ও পরিচয়পত্র প্রদানের বুথ। শপথ অনুষ্ঠান উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অবস্থিত ছয়টি ন্যাম ভবনের মোট ২১৬টি ফ্ল্যাট নবনির্বাচিত এমপিদের বরাদ্দের লক্ষ্যে প্রস্তুত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এমপি হোস্টেল, লাউঞ্জ, ডাইনিং ব্লক ও অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবেও ব্যবহৃত কক্ষগুলোতে চলছে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ।

দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ফ্ল্যাটগুলোতে জমে থাকা ধুলো, দাগ ও ক্ষয়ক্ষতি দূর করতে সংস্কার চলছে। প্রতিটি ইউনিটে করা হচ্ছে ডিপ ক্লিনিং। বাথরুমের ফিটিংস, পানির সংযোগ, স্যানিটারি লাইন, বৈদ্যুতিক তার, সুইচ-ফ্যান ও আলোকসজ্জা পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের শেরেবাংলা নগর বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ পারভেজ বলেন, “নতুন এমপিদের আবাসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা ও রংয়ের কাজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সিভিল, স্যানিটারি ও ইলেকট্রিক্যাল ত্রুটি থাকলে তা ঠিক করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে সংসদ ভবন, এমপি হোস্টেল ও ন্যাম ভবনের সংস্কারে সাড়ে ২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে, নাখালপাড়ায় এমপিদের জন্য বরাদ্দ ৪৯টি ফ্ল্যাটেও শেষ মুহূর্তের সংস্কার চলছে। ওয়াশরুম ও কিচেন ফিটিংস সংস্কার, গেটের লক পরিবর্তন, পুরনো কমোড ও অকেজো এসি সরিয়ে নতুন এসি স্থাপন করা হচ্ছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সত্তার বলেন, “আমাদের আওতাধীন এমপিদের ফ্ল্যাটগুলো দ্রুত প্রস্তুত করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।” 

তবে ন্যাম ভবনের কিছু কাঠামোগত সংস্কারকাজ চলমান থাকায় সব ইউনিট পুরোপুরি প্রস্তুত হতে আরো দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে। এই সময়ে নবনির্বাচিত এমপিরা অস্থায়ীভাবে সংসদ হোস্টেল ও সংশ্লিষ্ট ব্লকগুলো ব্যবহার করবেন।

অন্যদিকে বেইলি রোড, মিন্টো রোড ও হেয়ার রোড এলাকায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য বরাদ্দ সরকারি বাসভবনগুলোর সংস্কারকাজ এখনও শুরু হয়নি। গণপূর্ত অধিদপ্তর জানায়, শিগগিরই এসব বাসভবনেও স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার শুরু হবে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে সংসদ ও ন্যাম ভবনের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার করা হচ্ছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা যেন নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করতে পারেন সেই লক্ষ্যেই এই প্রস্তুতি।”