সারা বাংলা

শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় মসজিদের খতিবকে অব্যাহতির অভিযোগ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতীক শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের কুচিয়া মোড় জামে মসজিদের খতিব আব্দুল জব্বারকে অব্যাহতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। তার প্রতীক ছিল শাপলা কলি। খতিব মো. আব্দুল জব্বার জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তিনি ওই প্রতীকে ভোট দিয়েছেন বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সারজিস আলম পরাজিত হন। এর পরদিন শুক্রবার সকালে মসজিদের মুসল্লি আব্দুল হাকিম ফোন করে তাকে মসজিদে না আসার জন্য বলেন বলে অভিযোগ করেছেন আব্দুল জব্বার। অভিযুক্ত মুসল্লি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। 

আব্দুল জব্বার বলেন, “২০০৮ সাল থেকে আমি এই মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু, হঠাৎ করেই কোনো কিছু না জানিয়ে আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে জানতে পারি, সারজিস আলমের শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার কারণে আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সোবহান বলেছেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে মতপার্থক্যের জেরে এমন ঘটনা ঘটত বলে শোনা যেত। বর্তমান সময়ে এমন ঘটনা দুঃখজনক।”

অভিযুক্ত আব্দুল হাকিম বলেছেন, “হুজুর জামায়াতের রাজনীতি করেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাকে বলা হচ্ছে, আপনি রাজনীতি করবেন কেন? আপনার পিছনে সব মতের মানুষ নামাজ পড়ে। আপনি রাজনীতি করলে বিতর্ক তৈরি হয়। কিন্তু, তিনি রাজনীতি করেই গেছেন। এজন্য আমরা নতুন খতিব খুঁজছি।”

এ ব্যাপার মসজিদের সভাপতি আব্দুল হালিম বলেছেন, “আমরা ব্যাপারটা নিয়ে বসেছিলাম। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, রমজান মাসের পর তাকে বাদ দেব।”

এ ব্যাপারে কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল প্রধান বলেছেন, “এমন ঘটনার কথা শুনেছি। ভোটের কারণে খতিবকে সরিয়ে দেওয়াটা অবশ্যই অন্যায়। প্রকৃত ঘটনা জানতে আমি খোঁজ নেব।”