কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় চাঁদার টাকা না পেয়ে ওমর ফারুক নামে এক ব্যক্তির ওপর হামলা করার অভিযোগ উঠেছে যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অভিযুক্ত হানিফ কবিরাজ সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদল কর্মী।
ভুক্তভোগী ওমর ফারুক কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সদর উপজেলার খাজানগর এলাকার ফ্রেশ অ্যাগ্রো অটো রাইস মিলের মালিক।
এ ঘটনায় কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন সরকার তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেজে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, দলের নীতি, আদর্শ ও সংহতি পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের কারণে যুবদল হানিফ কবিরাজকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করেছে। তার কোনো অপকর্মের দায়িত্ব যবদল নেবে না।
ভুক্তভোগী ওমর ফারুক বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর হানিফ কবিরাজ নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে (মেরে ফেলার হুমকি) আমার কাছ থেকে তিন দফায় ১৯ লাখ টাকা চাঁদা নিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কিছুদিন আগে আমার কাছে আবারো ১০ লাখ দাবি করে। বিষয়টি সে সময় আমি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকারকে জানাই। এতে হানিফ কবিরাজ আমার ওপর ক্ষুব্ধ হন।”
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওমর ফারুক জানান, সোমবার বিকেলে তিনি নিজের প্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় হানিফ তার দল নিয়ে হঠাৎ আক্রমণ করেন। হানিফ জানতে চান, কেন তিনি (ওমর ফারুক) চাঁদার বিষয়টি বিএনপি নেতা জাকির হোসেনকে জানিয়েছেন। এ সময় তাকে মারধর করা হয়।
ঘটনার পর চালকল ও এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। তারা হানিফ কবিরাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বিক্ষোভকারীরা কুষ্টিয়া-আলমডাঙ্গা আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে আধা ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বিক্ষোভকারীরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কুষ্টিয়া যুবদলের সমন্বয়ক আবদুল মাজেদের সঙ্গে থাকা হানিফ কবিরাজ খাজানগর এলাকার মিল মালিকদের হুমকি দিয়ে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করেন। তাদের দাবি, হানিফকে ব্যবহার করে মাজেদ মিল মালিকদের কাছ থেকে চাঁদার টাকা আদায় করেছেন। তাঁদের চাঁদাবাজির কারণে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ।
অভিযোগের বিষয়ে হানিফ কবিরাজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, “পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”