আর কিছুক্ষণ পরেই শপথ নেবেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী সদস্যরা। ২৯৭ সংসদ সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও সকাল ৯টার পর থেকেই নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদ ভবনে ঢুকতে দেখা গেছে। সংসদ ভবনের সামনে উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্বপালন করছেন।
প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে সকাল সাড়ে ৯টার কিছু পরই গুলশানের বাসা থেকে বের হন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিকেলে শপথ নেবেন তিনি। সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানই নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশকে।
আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান। এর মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী একটি নির্বাচিত সরকার গঠন এবং এর যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।
ঐতিহ্যগতভাবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথের আনুষ্ঠানিকতা হতো বঙ্গভবনের দরবার হলে। এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে ব্যতিক্রম।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন দেশি ও বিদেশি অতিথি অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে, যার মধ্যে ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধি রয়েছেন।
১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এককভাবে ২০৯টিতে জয়ী হয় বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হচ্ছেন।
নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছে।
আদালতের নির্দেশনার কারণে দুটি আসনের ফল ঘোষণা করা হয়নি। আর একজন প্রার্থীর মৃত্যুজনিতকারণে একটি আসনে নির্বাচন হয়নি। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলো।