রাজশাহীর তানোরে স্কুলের প্রবেশপথে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের জুমারপাড়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেন রোকন উদ্দীন মোল্লা। ফলে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) স্কুলে প্রবেশ করতে না পেরে ফিরে যান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। স্কুলে প্রবেশ পথের জায়গাটি নিজের বলে দাবি করেছেন রোকনউদ্দীন মোল্লা।
শিক্ষকরা জানান, ১৯৯৮ সালে জুমারপাড়া গ্রামে এই বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই রাস্তা ব্যবহার করে স্কুলে প্রবেশ করছিলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মুণ্ডুমালা-আমনুরা সড়কের পাকা রাস্তা থেকে ১১ ফিট জমি রোকন উদ্দীন মোল্লা তার নিজের দাবি করেন। কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে স্কুলের প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেন তিনি।
শিক্ষকরা জানান, এর আগেও রোকন উদ্দীন মোল্লা একবার স্কুলের প্রবেশ পথ ঘিরে দিয়েছিলেন। তৎকালীন ইউএনও লিয়াকত সালমান বেড়া ভেঙে তাকে ভৎসনা করেছিলেন। শিক্ষকদের ভাষ্য, তার স্কুলের প্রবেশপথ বন্ধ করা ঠিক হয়নি।
জুমারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউরেকা খাতুন বলেন, “স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাকা সড়কের ১১ ফিট জায়গা ছেড়ে বেড়া দিয়ে স্কুলের গেট করা হয়েছে। এখন ওই ১১ ফিট জায়গায় দোকান করবেন বলে রোকন উদ্দীন মোল্লা গেটে ঘিরে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে স্কুলে প্রবেশের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। শিক্ষার্থীসহ আমরা শিক্ষকরা কেউ স্কুলে যেতে না পেরে গেটের সামনে অবস্থান করি। এসিল্যান্ড স্যার এসেও কোনো ব্যবস্থা করতে পারেননি।”
যোগাযোগ করা হলে রোকুনদ্দিন মোল্লা বলেন, “ওই ১১ ফিট যায়গা আমার। স্কুলের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। তারা আমার জমি ব্যবহার করছিল। আমার জমি ফেরত বা ওই অংশটুকুর কোনো দামও তারা দিচ্ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে বেড়া দিয়েছি।”
তানোর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব শংকর বসাক বলেন, “ওই জায়গাটুকু রোকন উদ্দীন মোল্লার নিজস্ব সম্পত্তি। তিনি স্কুলকে তার জমি ব্যবহার করতে দেবেন না তাই ঘিরে দিয়েছেন। স্কুলে প্রবেশের বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”