খেলাধুলা

বৃষ্টিতে ভেসে গেল ম্যাচ, ভেসে গেল অস্ট্রেলিয়া-আয়ারল্যান্ডও

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘বি’ গ্রুপে আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির পেটে গেল। টানা বৃষ্টির কারণে ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। তবে এই পরিত্যক্ত ম্যাচই হয়ে উঠেছে জিম্বাবুয়ের জন্য স্বপ্নপূরণের সোপান।

পয়েন্ট ভাগাভাগির ফলে গ্রুপ টেবিলে অস্ট্রেলিয়া ও আয়ারল্যান্ডকে পেছনে ফেলে সুপার এইটে জায়গা করে নিয়েছে জিম্বাবুয়ে। আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচ জেতেনি তারা, কিন্তু কার্যত জয়টা তাদেরই।

বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণ না থাকায় আম্পায়াররা ম্যাচ রেফারির কক্ষে আলোচনা শেষে দুই অধিনায়ককে ডাকেন। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ও আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক লরকান টাকার করমর্দনের মাধ্যমে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর মধ্য দিয়েই নিশ্চিত হয়- জিম্বাবুয়ে যাচ্ছে সুপার এইটে, আর বৃষ্টিতে ভেসে গেল অস্ট্রেলিয়া ও আয়ারল্যান্ডের সুপার এইটে যাওয়ার সম্ভাবনা।

ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় উচ্ছ্বাস লুকাননি রাজা। তবে লক্ষ্যপূরণের পথ যে এখনও অনেক বাকি, সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, উপ-আঞ্চলিক বাছাইপর্ব থেকে শুরু করে এই পর্যায়ে আসা সহজ ছিল না। দলকে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন এই অবস্থার জন্য দায়ী আমরা নিজেরাই, আর সমাধানও আমাদেরই করতে হবে।

রাজা জানান, ছোট পরিসরে উদযাপন হবে ঠিকই, কিন্তু দ্রুতই মনোযোগ যাবে পরবর্তী ম্যাচে। সুপার এইটে জিম্বাবুয়ের প্রতিপক্ষ শক্তিধর ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা সাজানোর কথাও জানান তিনি। তার মতে, ‘‘কোয়ালিফাই করাই চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। এটা শুধু বড় লক্ষ্যপূরণের পথে ছোট একটি ধাপ।’’

বৃষ্টি যেমন থামেনি, তেমনি জিম্বাবুয়ের সমর্থকদের উচ্ছ্বাসও থামানো যায়নি। গ্যালারির এক কোণে নাচ-গানে মেতে ছিলেন তারা। খেলোয়াড়রাও যোগ দেন সেই উদযাপনে। রাজা বারান্দায় এসে সমর্থকদের দিকে হাসিমুখে হাত নাড়েন। পরে পুরো দল মিলে গ্যালারিতে গান ও নাচে অংশ নেয়।

২০২৪ আসরে জায়গাই পায়নি জিম্বাবুয়ে। সেখান থেকে এবারের বিশ্বকাপে সুপার এইটে ওঠা, এটা নিঃসন্দেহে বড় প্রত্যাবর্তন। অনেকের ধারণা ছিল তারা হয়তো এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না। কিন্তু এখন তারা বড় দলগুলোর জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক টাকার বৃষ্টিকে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, টুর্নামেন্টে তাদের গতি আসে অনেক দেরিতে। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো কাজে লাগাতে না পারার আক্ষেপ ঝরেছে তার কণ্ঠে।

তবে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলা ক্রিকেটারদের জন্য এই অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচক বলেই দেখছেন তিনি। আগামী চক্রের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক।