পার্বত্য চুক্তির আলোকে সৃষ্ট পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সৃষ্টির ২৮ বছর পর প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পেয়ে উচ্ছ্বসিত রাঙামাটিবাসী। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। দীর্ঘ সময় পর রাঙামাটির এমপি মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় আনন্দের বন্যা বইছে জেলাজুড়ে।
১৯৯৭ সালে ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের পর পরের বছর ১৫ জুলাই তিন পার্বত্য জেলা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করা হয়। শুরুতেই এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিলেন খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত কল্পরঞ্জন চাকমা। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট জয়ী হওয়ার পর রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মনিস্বপন দেওয়ানকে উপমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠনের পর রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদারকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়। এর পর ২০১৪ সালে বান্দরবানের সংসদ সদস্য বীর বাহাদুরকে প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ সালে পুনরায় বীর বাহাদুরকে মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে একতরফা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবারো সরকার গঠন করার পর খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা থেকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিত্ব পেলেও এই প্রথম রাঙামাটি জেলা থেকে কোনো সংসদ সদস্য পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর উচ্ছ্বসিত রাঙামাটিবাসী। নেতাকর্মীরা একে-অপরকে মিষ্টিমুখ করাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দীপেন দেওয়ানকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। দীপেন দেওয়ানকে রাঙামাটিতে রাজকীয়ভাবে বরণের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
রাঙামাটি সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রনেল দেওয়ান বলেছেন, “দীপেন দেওয়ানের নেতৃত্বে আমরা সকল নেতাকর্মী গত ২০ বছর ধরে সক্রিয় ছিলাম। তিনি সরকারি চাকরি ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর ২০ বছর ধরে দুঃসময়ে দলের পাশে ছিলেন। দল তার এই ত্যাগের মূল্যায়ন করেছে। রাঙামাটিবাসী দীপেন দেওয়ানকে জাঁকজমকভাবে বরণে প্রস্তুতি নিচ্ছে।”
রাঙামাটিতে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভূট্টো বলেছেন, “আমাদের নেতা তারেক জিয়া রাঙামাটিবাসীকে মূল্যায়ন করেছেন। দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যবধানে ভোট জিতে এই আসনটি উপহার দেওয়ায় তিনি রাঙামাটির মানুষের গণরায়কে স্বীকৃতি দিয়ে রাঙামাটিতে এই প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিত্ব দিয়েছেন। রাঙামাটিবাসী তার কাছে কৃতজ্ঞ। দীপেন দেওয়ান এই আস্থার প্রতিদান দেবেন। শিগগিরই দীপেন দেওয়ানকে রাঙামাটিতে রাজসিকভাবে বরণ করা হবে।”
অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ে দুজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তিন পার্বত্য জেলার বাইরে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল।