হাতে ৭ উইকেট। নেপালের ইতিহাস গড়ার জন্য শেষ ওভারে প্রয়োজন কেবল ৫ রান। স্কটল্যান্ডের দেওয়া ১৭১ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয়ের জন্য ১৯ ওভারে নেপালের রান ৩ উইকেটে ১৬৬।
শেষ ওভারে সহজ সমীকরণ মেলাতে পারলেই দারুণ জয় তাদের। দ্বিতীয় বলেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ চলে আসে। ওভারের প্রথম বলে দীপন্দ্র সিং আইর সিঙ্গেল নিয়ে নিজের পঞ্চাশ পূর্ণ করেন। পরের বল গুলশান শাহ পাঠান বাউন্ডারিতে। ৪ বল আগে নেপালের ৭ উইকেটের জয় চূড়ান্ত হয়ে যায়।
এই ওয়াংখেড়েতে ইংল্যান্ডকে প্রায় বাগে পেয়েও হারাতে পারেনি তারা। এবার কোনো ভুল করেননি। এক যুগের অপেক্ষা শেষ হলো তাদের।
হিমালয়ের দেশটির প্রথম জয়ের নায়ক দীপন্দ্রা সিং। বল হাতে ৩ ওভার হাত ঘুরিয়ে উইকেট না পেলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্যাটিংয়ে নেমে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন। ২৩ বলে ৫০ রান করেন ৪ চার ও ৩ ছক্কায়। অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন তিনি। ইতিহাসের অক্ষয় কালিতে লিখা হয়ে গেল তার নাম।
এছাড়া ব্যাটিংয়ে ভালো করেছেন গুলশান শাহ ও দুই ওপেনার কুশাল ভ্রুতেল ও আসিফ শেখ। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৭৪ রান পায় নেপাল। প্রত্যাশিত ঝড় না থাকলেও যে গতিতে তারা আগাচ্ছিল তাতে পরিকল্পনা স্পষ্ট ছিল। উইকেট আগলে পরে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে যাবে।
দুই ওপেনার ১৩ রানের ব্যবধানে সাজঘরে ফেরেন। ৩৫ বলে ১ চার ও ৪ ছক্কায় কুশাল ভ্রুতেল ৪৩ রান করেন। আসিফ শেখ ২৭ বলে করেন ৩৩ রান। অধিনায়কের ব্যাট তিনে নেমে জ্বলে উঠেনি। রোহিত পাউডেল করেন ১৬ রান। সেখান থেকে দীপন্দ্র ও গুলশানের অবিচ্ছিন্ন ৩৬ বলে ৭৩ রানের জুটিতে নেপাল লিখে ফেলে ইতিহাস।
এর আগে তাদের বোলিং ছিল আঁটসাঁট। সম্পাল কামির ৩ ও নাদান যাদবের ২ উইকেটে স্কটল্যান্ডের রানের চাকায় লাগাম টানে নেপাল।
টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে স্কটল্যান্ড বড় সংগ্রহের ভিত পায় মাইকেল জোসনের ব্যাটে। ডানহাতি ব্যাটসম্যান ৪৫ বলে ৭১ রান করেন ৮ চার ও ৩ ছক্কায়। এছাড়া ত্রিশের ঘর কেউ পেরোতে পারেনি। জর্জ মুনসে ২৭ ও ব্রেন্ডন মুকেলেন ২৫ রান করেন।
বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়াতে র্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে এগিয়ে থাকায় আইসিসি স্কটল্যান্ডকে খেলার সুযোগ করে দেয়। কিন্তু ইতালিকে হারানো বাদে বাকি তিনটি ম্যাচেই তারা হেরেছে।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডকে মাত্র ৪ রানে হারাতে না পারা নেপাল পরের দুই ম্যাচে তেমন ভালো করতে পারেনি। ইতালির কাছে ১০ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৯ উইকেটে ম্যাচ হারে। আজ শেষ ম্যাচে জ্বলে উঠে জয় দিয়ে এবারের মিশন শেষ করলো নেপাল। তাতে নিশ্চিতভাবে কাঠমাণ্ডু ও পোখরায় বিজয় উল্লাস হয়েছে প্রবলভাবে।