নব-নির্বাচিত সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে আমিনুল হক জানিয়েছেন, সাবেক দুই সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসানকে নিয়ে নমনীয় থাকবে তার মন্ত্রণালয়। তাদের বিরুদ্ধে যে মামলা আছে তা রাষ্ট্রীয়ভাবে দেখা হবে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কিংবদন্তি দুই ক্রিকেটারকে তাদের প্রাপ্য সম্মান দেবে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মঙ্গলবার শপথ নিয়েছেন আমিনুল হক। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক রাজনীতির মাঠে লম্বা সময় কাটিয়েছেন। সোচ্চার ছিলেন আন্দোলনে। করতে হয়েছে কারাবরণ। এখন তার কাঁধে ক্রীড়াঙ্গনের দায়িত্ব।
২০১৮ সালের জাতীয় দলের অধিনায়ক থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের টিকিট পেয়ে সাংসদ হন মাশরাফি। পরের বছর বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশকে। ২০২৪ সালেও নড়াইল-২ আসন থেকে সাংসদ হন। একই বছর সাকিব মাগুরা-১ থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। দুজনের সংসদ নির্বাচনে যাওয়া নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয় চারদিকে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এটি আরও জোরালোভাবে সামনে আসে।
সরকার পরিবর্তনের পর আদাবর থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নিহত হওয়া পোশাককর্মী রুবেল হত্যা মামলায় সাকিবকে আসামি করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের ২৪ তারিখে পুঁজিবাজারে প্যারামাউন্ট ইনস্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির মাধ্যমে সিকিউরিটিজ আইন ভঙ্গ করায় সাকিবকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করে বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন।
সাকিব সরকার পতনের আগের থেকেই দেশের বাইরে। এরপর দেশে ফেরার চেষ্টা করেও পারেননি। মাশরাফির নামে আছে হত্যা মামলা। কিন্তু তার বিরুদ্ধে অর্থ, দুর্নীতির কোনো মামলা নেই। তিনি আছেন আত্মগোপনে।
ক্রীড়াঙ্গনের নতুন অভিভাবক আমিনুল দায়িত্ব নিয়ে জানিয়েছেন, দুই ক্রিকেটারের ফেরার পথ প্রশস্ত করবেন তিনি,
“সাকিব আর মাশরাফির বিষয়টি… এটা রাষ্ট্রীয় একটি সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি যে, রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা অত্যন্ত নমনীয়ভাবে… যেহেতু তারা বাংলাদেশের লিজেন্ডারি ক্রিকেটার, তাদেরকে অবশ্যই আমরা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু যে মামলাগুলো হয়েছে, সেটা রাষ্ট্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে আমরা চাই তারা যেন আমাদের বাংলাদেশে দ্রুত ফিরে আসতে পারে।”
সাকিবের ক্রিকেট মাঠে ফেরার দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে। জাতীয় দলে খেলে অবসর নিতে চান বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার। এজন্য বিভিন্ন ফ্রাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতায় খেলে যাচ্ছেন তিনি। মাশরাফির ২২ গজে ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই। সেই সুযোগটিও নেই। তার কেবল স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অপেক্ষা।