মঙ্গলবার রাতে লিসবনে জয়ের হাসি ফুটেছিল রিয়াল মাদ্রিদের মুখে। কিন্তু সেই হাসিকে ম্লান করে দেয় এক তিক্ত অধ্যায়। চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে-অফ প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদ ১-০ গোলে হারায় বেনফিকাকে। তবে ম্যাচের বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। সেটা অবশ্য গোলের জন্য নয়, বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগ ঘিরে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। পেনাল্টি এলাকার কোণাকুণি অবস্থান থেকে অসাধারণ বাঁকানো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। কঠিন কোণ, সামনে ডিফেন্ডার; তবু নিখুঁত কারুকাজে গোলরক্ষক আনাতোলি ত্রুবিনকে পরাস্ত করেন। গোল উদ্যাপনও করেন গ্যালারির সামনে দাঁড়িয়ে।
কিন্তু এরপরই বদলে যায় দৃশ্যপট। হঠাৎই ভিনিসিয়ুস দৃশ্যত ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। অভিযোগ করেন, বেনফিকার এক সদস্য তাকে বর্ণবাদী মন্তব্য করেছেন। তিনি মাঠ ছাড়েন এবং আর ফিরতে অস্বীকৃতি জানান। রেফারি উয়েফার নিয়ম মেনে খেলা স্থগিত করেন। প্রায় ১০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে, এমনকি এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল ম্যাচটি আর এগোবে না।
বিরতির সময় মাদ্রিদের ডাগআউটে বসে ছিলেন ভিনিসিয়ুস। এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড অতীতে বহুবার বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি বলেছিলেন, “আমি স্পেনে খেলি, যেখানে অনেক সহ্য করেছি, এখনো করছি।”
একই বছরের জুনে ভ্যালেন্সিয়ার তিন সমর্থককে তার বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের দায়ে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। যা ছিল স্পেনে এ ধরনের প্রথম রায়।
দীর্ঘ বিরতির সময় বেনফিকার কোচিং স্টাফের এক সদস্যকে লাল কার্ড দেখানো হয়। আলাদা ঘটনায় কোচ জোসে মরিনহোকেও মাঠ ছাড়তে হয়। ম্যাচ পুনরায় শুরু হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। ভিনিসিয়ুসের প্রতিটি বল স্পর্শে গ্যালারি থেকে শোনা গেছে শিস, বিদ্রূপ। কিলিয়ান এমবাপ্পেও বিরতির সময় দৃশ্যত অস্বস্তিতে ছিলেন।
খেলার বিচারে অবশ্য রিয়ালই ছিল এগিয়ে। প্রথমার্ধে ত্রুবিনের দৃঢ়তায় গোল পায়নি তারা। জানুয়ারির লিগ ম্যাচে শেষ মুহূর্তের হেডে রিয়ালকে প্লে-অফে ঠেলে দেওয়া এই ইউক্রেনীয় গোলরক্ষক শুরুতে আবারও প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বেনফিকা। ম্যাচজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করে জয়ের দাবিদার ছিল রিয়ালই।
শেষদিকে পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। গ্যালারি থেকে রিয়ালের খেলোয়াড়দের দিকে পানির বোতল ও বিভিন্ন বস্তু ছোড়া হয়। উত্তেজনাপূর্ণ এক রাত শেষ হয় এক গোলের ব্যবধানে। কিন্তু সেই গোলের সৌন্দর্যকে ছাপিয়ে যায় বর্ণবাদ বিতর্কের কালো ছায়া।