ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। এই সরকারে মন্ত্রী হিসেবে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার ভাগ্নে এম এ মুহিত স্থান পাওয়ায় আনন্দে ভাসছেন যমুনা তীরবর্তী সিরাজগঞ্জের মানুষ।
মামা মন্ত্রী ও ভাগ্নে প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় তাদের দুইজনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার করে অভিনন্দন জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জের বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। ফেসবুকে শুভেচ্ছা বার্তা ও ছবিতে ভরে উঠেছে টাইমলাইন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসন থেকে প্রথমবার নির্বাচিত ড. এম এ মুহিত ডাক ও টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এর আগে, ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ও পরে কৃষি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বাবা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ছিলেন পাকিস্তান সরকারের শিল্পমন্ত্রী।
ড. এম এ মুহিত সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. এম এ মতিনের ছেলে। তিনি শাহজাদপুর আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো দাঁড়িয়ে এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
দীর্ঘদিন পর জেলার রাজনীতিতে এমন প্রাপ্তিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, মামা-ভাগ্নে সমন্বিত উদ্যোগে যমুনা ভাঙন রোধ, রাস্তাঘাট উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অগ্রগতি এবং নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে নেবেন।
জেলার কাপড় ব্যবসায়ী বোরহান উদ্দিন ও মেরাজ শেখ জানান, এটি শুধু রাজনৈতিক অর্জন নয়, পুরো জেলার জন্য গর্বের বিষয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রতিশ্রুত উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জকে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ জেলায় রূপান্তর করবেন মামা-ভাগ্নে।
সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জীবরাঈল হোসেন জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় জেলার সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হবে। সিরাজগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা মামা-ভাগ্নের হাত ধরে যমুনাপাড়ে শুরু হবে নতুন সম্ভাবনার অধ্যায়।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, “দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগের পর আজ যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে, তা দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। যোগ্যতা, দক্ষতা ও সাংগঠনিক অবদানের ভিত্তিতেই মামা মন্ত্রী এবং ভাগ্নে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ উন্নয়ন, সুশাসন ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে এগিয়ে যাবে।”
তিনি বলেন, “নতুন মন্ত্রিসভা জনগণের কল্যাণে কাজ করবে এবং নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করবে সিরাজগঞ্জবাসী এমনটি প্রত্যাশা করছে।”