রাশিয়ার তেলবাহী জাহাজ ও ‘ছায়া বহরের’ ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা ও জাহাজ জব্দের প্রচেষ্টা আর সহ্য করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ক্রেমলিন।
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও শিপিং বিষয়ক উপদেষ্টা নিকোলাই পাত্রুশেভ বলেছেন, রাশিয়ার শিপিং বাণিজ্য সচল রাখতে ও পশ্চিমাদের জাহাজ জব্দের প্রচেষ্টা রুখে দিতে রুশ নৌবাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রুশ সংবাদমাধ্যম আর্গুমেন্টি ই ফাক্টিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাত্রুশেভ জানান, রাশিয়ার পক্ষ থেকে একটি কঠোর বার্তা দেওয়া প্রয়োজন- বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং বাল্টিক দেশগুলোর প্রতি।
তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, সব সময়ের মতো নৌ চলাচলের নিরাপত্তার সেরা গ্যারান্টি হলো নৌবাহিনী।” তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে রুশ তেলবাহী জাহাজ আটক বা দখলের প্রচেষ্টাকে ‘জলদস্যুতার মতো আক্রমণ’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি আমরা দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ না করি, তাহলে ইংরেজ, ফরাসি এবং এমনকি বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোও শিগগির এতটাই সাহসী হয়ে উঠবে যে তারা অন্তত আটলান্টিক অববাহিকায় আমাদের দেশের সমুদ্রে প্রবেশাধিকার বন্ধ করার চেষ্টা করবে।”
পাত্রুশেভ বলেন, রাশিয়ার অর্থনীতি সচল রাখতে তেল, শস্য এবং সার পাঠানোর সক্ষমতা বজায় রাখা জরুরি। তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমারা রুশ অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত- শিপিংকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
তিনি আরো যোগ করেন, “রাশিয়া থেকে অনেক দূরে অবস্থিত সমুদ্র এলাকাগুলোতেও স্থায়ীভাবে পর্যাপ্ত রুশ যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হতে পারে- এটি এমন শক্তি (রুশ যুদ্ধজাহাজ) যা পশ্চিমা জলদস্যুদের উৎসাহকে ঠান্ডা করে দিতে সক্ষম হবে।”
তিনি দাবি করেন, পশ্চিমা শক্তিগুলো তাদের নৌবাহিনীতে আমূল প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন আনছে। ভেনেজুয়েলা ও ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টতই যুদ্ধজাহাজ দেখিয়ে প্রভাব খাটানোর নীতি চালাচ্ছে।
পাত্রুশেভ আরো জানান, রাশিয়ার বিশ্বাস যে ন্যাটো সামরিক জোট বাল্টিক সাগরে অবস্থিত রুশ ছিটমহল কালিনিনগ্রাদকে অবরুদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে।
তিনি বলেন, “নৌ অবরোধের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইউরোপীয়রা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামরিক উত্তেজনার দিকে এগোচ্ছে, আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে এবং প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে উস্কানি দিচ্ছে।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি এই পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান না হয়, তাহলে নৌবাহিনীর মাধ্যমে এই অবরোধ ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হবে।”