বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের এক সময়ের জনপ্রিয় ও দাপুটে অভিনেত্রী নাসিমা খান তার নিখোঁজ পুত্র নাবিল নাসির কুশলকে ফিরে পেতে সহযোগিতা চেয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি, আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি, সন্ধ্যায় আশুলিয়া থানাধীন ভাদাইল এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর বাড়ি ফিরেনি কুশল। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি। ফলে সন্তানের কোনো খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন ও অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন অভিনেত্রী। নিখোঁজ ছেলেকে ফিরে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাসিমা খান গণমাধ্যমকে বলেন, “১১ তারিখে শার্ট পরে ঘর থেকে বের হলো, সেটাই শেষ দেখা। আর আমার বাবাটার খোঁজ পাচ্ছি না। আমি আমার ছেলের সন্ধান চাই।”
অভিনেত্রী জানান, তার ছেলে সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। তবে এর আগে কখনো এভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। এ কারণে পরিবার আরো বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
নাসিমা খানের আশঙ্কা, মানসিক সমস্যার কারণে কুশল হয়তো নিজের ঠিকানা স্পষ্ট করে বলতে পারবে না। তিনি বলেন, “তার তো একটু সমস্যা আছে। সাভারের নিজের বাড়ির ঠিকানা হয়তো বলতে পারবে না; তবে নিজের নাম বলতে পারবে।”
অভিনেত্রী নাসিমা খানের দুই ছেলে। বড় ছেলের ডাকনাম উপল, পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন এবং বর্তমানে সেখানেই একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। গত ডিসেম্বরে অল্প কয়েক দিনের ছুটিতে দেশে এসে মায়ের সঙ্গে সময় কাটিয়ে বিদেশে ফিরে যান।
পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, কেউ যদি নাবিল নাসির কুশলের সন্ধান পান, তাহলে যেন আশুলিয়া থানায় অথবা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রথম দিকের অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম নাসিমা খান। ১৯৫৯ সালে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। ষাটের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত মুখ। ২০১১ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ সিনেমায় সবশেষ দেখা যায় তাকে।