সারা বাংলা

বনদস্যু আতঙ্কে জেলেদের সুন্দরবনে মাছ ধরা বন্ধ

সুন্দরবনে বনদস্যুদের একের পর এক অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের আতঙ্কে বহু জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বনদস্যু আতঙ্কে দুবলারচরের শুটকি পল্লির ১০ হাজার জেলে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখে চরে অবস্থান নিয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে অপহৃত ২০ জেলের দুই দিনেরও সন্ধান মেলেনি।

দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন আহমেদ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দুবলার আলোরকোল থেকে মুঠোফোনে বলেন, সুন্দরবন ও সাগরে নিরাপত্তা না থাকায় বনদস্যুদের হাতে অপহরণের আতঙ্কে দুবলা চরের ১০ হাজার জেলে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে। জেলেরা এখন চরে অলস সময় কাটাচ্ছে এবং মৌসুমের শেষে এসে তারা কী নিয়ে বাড়ি যাবে, সেই চিন্তায় আছে।

তিনি আরো বলেন, সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে বনদস্যুদের চারটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে সুন্দরবন ও সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জেলেদের ধরে নিয়ে আটকে মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছে। যারা টাকা দিতে পারছে না তাদের বেদম মারধর করছে।

গত সপ্তাহে দস্যুদের মারধরে গুরুতর আহত হয়ে চার জেলে রামপাল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে। সুন্দরবনে আইনশৃংখলা বাহিনীর তৎপরতা না থাকায় দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে গেছে।

আলোর কোলে অবস্থানরত রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, আগে প্রবাদ ছিল; জলে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘ। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে,  সাগরে গেলে ডাকাত। দস্যুদের তাণ্ডবে মাছ ধরা বন্ধ করা হয়েছে। গত ১৫ দিনে অনেক জেলেকে দস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। দস্যুদের কব্জায় এখন শতাধিক জেলে আটক রয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জেলে পল্লি দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বলেন, দস্যু আতঙ্কে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় তাদের রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।   

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার খলিলুর রহমান বলেন, বনদস্যু আতঙ্কে তাদের স্টেশন অফিস থেকে কোনো জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরার পাস (অনুমতি) নিচ্ছে না। যার ফলে মাসিক রাজস্বের টার্গেটে বড় ধরণের প্রভাব পড়ছে বলে ওই স্টেশন কর্মকর্তা জানান।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) শরীফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তায় কাজ করছে বলেও জানান তিনি।