অর্থনীতি

নতুন অর্থমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে ডিবিএর অভিনন্দন

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি দায়িত্ব গ্রহণ করায় তাদের শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানিয়েছে পুঁজিবাজারের স্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম প্রেরিত পৃথক পৃথক বার্তায় এ অভিনন্দন জানানো হয়। আমির খসরু ও জোসায়েদ সাকির ওপর দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় অর্পণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে সংগঠনটি।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে দেওয়া অভিনন্দন বার্তায় ডিবিএ প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি দেশের পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন সুপরিচিত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। বিশেষ করে তিনি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে তার অগ্রণী ভূমিকা এবং প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের পুঁজিবাজারের ভিত্তি শক্তিশালীকরণ, বাজার সম্প্রসারণ, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অতীতে সফলতার সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নীতি সংস্কার ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

ডিবিএ আশা প্রকাশ করে, তার সুদীর্ঘ প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী অভিজ্ঞতা বর্তমান দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে।

বার্তায় আরো উল্লেখ করা হয়, পুঁজিবাজারে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার প্রশ্নে তিনি ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার থেকেছেন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) স্বাধীন ও কার্যকর ভূমিকার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ব্যাংক-নির্ভর অর্থায়নের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রধান উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করে আসছেন।

সাইফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, একটি কার্যকর ও ফাংশনাল পুঁজিবাজার প্রতিষ্ঠিত হলে শক্তিশালী মৌলভিত্তি সম্পন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ বাজারে অংশগ্রহণে উৎসাহিত হবে, যা দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে। জিডিপির তুলনায় বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের আকার এখনো তুলনামূলকভাবে ছোট- এই বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি অর্থনীতির সুষম বিকাশের জন্য পুঁজিবাজার সম্প্রসারণকে অপরিহার্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। 

পুঁজিবাজারের কাঠামোগত সংস্কার, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, বাজারের গভীরতা উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্যে তার দলের নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

এদিকে, জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিকে দেওয়া অভিনন্দন বার্তায় ডিবিএ প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনিএকজন অভিজ্ঞ ও জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো নির্মাণ, বৈষম্য হ্রাস এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। জাতীয় অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ, আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তার সুস্পষ্ট অবস্থান সংশ্লিষ্ট মহলে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হয়েছে।

ডিবিএ’র মতে, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় নতুন গতি সঞ্চার করবে। তার প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে আর্থিক খাতে কাঠামোগত সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সম্ভব হবে। দেশের অর্থনীতি, পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নে সরকারের গৃহীত উদ্যোগে সংগঠনটি অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও সক্রিয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। একটি শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে ডিবিএ সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাবে।

পরিশেষে, সংগঠনটি নবনিযুক্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং নতুন দায়িত্ব পালনে তাঁর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম।