সারা বাংলা

সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় বাগেরহাটের শারমিন সুলতানা রুমা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাগেরহাট জেলায় এবার সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন নিয়ে চলছে আলোচনা। জেলা শহরের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন, সবখানেই আলোচনা, কে পাচ্ছেন সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন?

এই আলোচনায় উঠে এসেছে বাগেরহাটের তরুণ রাজনৈতিক সংগঠক শারমিন সুলতানা রুমার নাম। তৃণমূল রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেত্রীকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ।

জানা গেছে, শারমিন সুলতানা রুমা দীর্ঘদিন ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর রাজনীতিতে সক্রিয়।

বর্তমানে তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি আইন ছাত্রফোরামের খুলনা বিভাগীয় টিম প্রধান হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। ২০২২ সালের ২৪ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সংঘটিত একটি হামলায় আহত হন বলে দাবি করা হয়। এছাড়া ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টন এবং ৭ ডিসেম্বর দলীয় কার্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় এবং ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মালিবাগে সংঘর্ষে তিনি আহত হন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

তার পারিবারিক পটভূমিও রাজনৈতিকভাবে পরিচিত। তার বাবা শেখ মো. আতিয়ার রহমান রামপাল উপজেলা যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সভাপতি ছিলেন। ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর তাকে হত্যা করা হয়, এ ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়।

দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের মতে, তৃণমূল থেকে উঠে আসা, শিক্ষিত ও সংগ্রামী নারী নেতৃত্ব হিসেবে শারমিন সুলতানা রুমাকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন দেওয়া হলে তা ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়নের বার্তা দেবে এবং নারী নেতৃত্বের অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

রামপাল উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বলেন, “শারমিন সুলতানা রুমা সব সময় রাজপথে ছিলেন। বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। তাকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হলে দল ও এলাকার নেতাকর্মীরা উপকৃত হবেন।”

রাজনৈতিক মহলে এখন দেখার বিষয়, দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি সংরক্ষিত মহিলা আসনের মনোনয়ন পান কি না।