খেলার মাঠে সাধারণত শোনা যায় ব্যাট-বলের শব্দ, শিশুদের হাসি, কোচের নির্দেশনা। কিন্তু কানপুরে এক অনূর্ধ্ব-১৩ ম্যাচে নেমে এল অপ্রত্যাশিত এক বিপর্যয়। মৌমাছির ঝাঁকের আকস্মিক হামলায় প্রাণ হারালেন অভিজ্ঞ ক্রিকেট আম্পায়ার মানিক গুপ্তা।
৬৫ বছর বয়সী মানিক গুপ্তা প্রায় তিন দশক ধরে কানপুর ক্রিকেট সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অসংখ্য স্থানীয় ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সেদিনও শিশুদের ম্যাচে দায়িত্বে ছিলেন। খেলার নিয়ম দেখভাল করছিলেন নিজের স্বভাবসুলভ নিষ্ঠায়। হঠাৎই আকাশ থেকে যেন নেমে আসে মৌমাছির ঝাঁক। মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। খেলোয়াড়, দর্শক, কর্মকর্তা- যে যার মতো ছুটতে শুরু করেন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে।
কিন্তু দুর্ভাগ্য এড়াতে পারেননি গুপ্তা। অসংখ্য মৌমাছির হুলে গুরুতরভাবে আহত হন তিনি। দ্রুত তাকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে স্থানান্তর করা হয় আরও উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আরেক আম্পায়ার জগদীশ শর্মাও এই ঘটনায় আহত হয়েছেন। তবে তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে। বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ও দর্শকও হুলের আঘাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মানিক গুপ্তা ছিলেন কানপুরের ক্রিকেট অঙ্গনের এক পরিচিত মুখ। স্থানীয় টুর্নামেন্টে তার উপস্থিতি যেন ছিল স্থায়ী এক আস্থা। তরুণ ক্রিকেটারদের কাছে তিনি শুধু নিয়মের রক্ষক নন, ছিলেন এক অভিভাবকসুলভ মানুষ। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো ক্রীড়া সম্প্রদায়ে।
এই ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয় ২০১৯ সালের একটি ম্যাচের কথা, যখন এক আন্তর্জাতিক একদিনের খেলায় মৌমাছির আক্রমণে খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে তখন কেউ প্রাণ হারাননি।