ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাগেরহাট জেলার সদর ও কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়-১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী, প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর হামলা, হত্যা ও সহিংসতার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাগেরহাট-২ (সদর-কচুয়া) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অবিলম্বে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। দ্রুত ও দৃশ্যমান আইন প্রয়োগই পরিস্থিতির অবনতি রোধ করতে পারে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
কোনো নাগরিক যেন বিকল্প উপায়ে নিরাপত্তা খুঁজতে বাধ্য না হন— এ বিষয়টি নিশ্চিত করারও দাবি জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য। প্রতিটি ঘটনা যথাযথভাবে নথিভুক্ত ও রেকর্ড করার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জনগণের ম্যান্ডেট কোনো লাইসেন্স নয়; এটি একটি শর্তযুক্ত আমানত। এই আমানতের মূল শর্ত হলো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সবার জন্য সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা প্রদান। সুশাসনের প্রথম পরীক্ষা শুরু হয় নিজের দল ও কর্মীদের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।”
তিনি আরো বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। জুলাই বিপ্লব মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে। সে চেতনাকে ধারণ করে দমন-পীড়ন বা সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরে আসতে দেওয়া যাবে না।”
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ১১-দলীয় জোটের সমর্থকসহ নিরীহ নাগরিক ও ভোটারদের ওপর হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেছে। সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মান্দ্রা, বাদোখালি, বারুইপাড়া ইউনিয়নের আড়পাড়া, উজলপুর, কার্তিকদিয়া এলাকায় হামলার অভিযোগ উঠে এসেছে।
বিশেষ করে সদর উপজেলার গোটাপাড়া ইউনিয়নের পারনোয়াপাড়া গ্রামে শাহাজান সরদারের ছেলে ওসমান গনি (২৯) সরকারদলীয় কর্মী পরিচয়ে কতিপয় স্থানীয় সন্ত্রাসীর হামলায় নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এমপি রাহাদ। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “যে জাতি সদ্য তার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছে, সেই জাতির বুকে সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রতিহিংসার রাজনীতির স্থান নেই। দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে একবার রুখে দাঁড়িয়েছে, আবারও ভয়ভীতির অন্ধকারে ফিরে যাবে না।”
বিবৃতির শেষাংশে তিনি আল্লাহর কাছে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা কামনা করেন।