খেলাধুলা

পারিশ্রমিক মিলেছে, পেশাদারিত্ব নিয়ে রয়ে গেছে প্রশ্ন

নাঈম শেখকে ঘিরেই ছিল সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্র। ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় তাকে বিপিএলে দলে নিয়েছিল চট্টগ্রাম রয়্যালস। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই দলটি সরে দাঁড়ালে অনিশ্চয়তায় পড়ে যান নাঈমসহ পুরো স্কোয়াড—খেলতে পারবেন কি না, পারিশ্রমিক পাবেন কি না—এমন শঙ্কায় আকাশ ভরে ওঠে কালো মেঘে।

এই সংকটে এগিয়ে আসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তারা দায়িত্ব নিয়ে দলটিকে মাঠে নামায়। ফলও আসে দারুণ—শেখ মাহেদীর নেতৃত্বে চট্টগ্রাম রয়্যালস রানার্সআপ হয়। বিসিবির হস্তক্ষেপে পারিশ্রমিক নিয়েও নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন ক্রিকেটাররা।

বৃহস্পতিবার রমজানের প্রথম দিন সকালে চট্টগ্রামের খেলোয়াড়দের হাতে তুলে দেওয়া হয় বাকি পারিশ্রমিকের চেক। টুর্নামেন্ট চলাকালে ২৫ শতাংশ এবং শেষে আরও ২৫ শতাংশ পাওয়ার পর এবার দেওয়া হলো অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ। কোটি টাকার একমাত্র ক্রিকেটার নাঈম শেখ চেক হাতে পাওয়ার সময় সতীর্থদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পারিশ্রমিক পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করে নাঈম বলেন, “শুরুতে কিছুটা চিন্তা ছিল। কিন্তু বিসিবি দায়িত্ব নেওয়ার পর আর কোনো দুশ্চিন্তা করতে হয়নি। আমরা শুধু মাঠের খেলায় মনোযোগ দিতে পেরেছি।”

একই সুরে শরিফুল ইসলাম বলেন, “গত আসরের টাকাও এখনো পাইনি। অথচ এবার টুর্নামেন্ট শেষ হতেই পারিশ্রমিক পেয়ে গেলাম—এটা অবশ্যই আনন্দের।”

চট্টগ্রাম রয়্যালসের দেশি-বিদেশি ক্রিকেটার, কোচিং ও সাপোর্ট স্টাফ মিলিয়ে বিসিবির মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৬৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা (ট্যাক্স ছাড়া)। ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি হিসেবে ২ কোটি টাকা এবং গ্যারান্টি মানির ১০ কোটির মধ্যে মাত্র ১ কোটি জমা দিতে পেরেছিল দলটি। এই ৩ কোটির সঙ্গে রানার্সআপ হওয়ার পুরস্কার ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ও টিকিট বিক্রির অংশ পাওয়ার কথা রয়েছে। বাকি প্রায় ৪ কোটি টাকা বিসিবিকেই ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, “সঠিক ম্যানেজমেন্ট থাকলে সফলতা আসে—চট্টগ্রাম সেটাই দেখিয়েছে। খেলোয়াড়রা আগেই ৫০ শতাংশ পেয়েছিল, আজ বাকি টাকাও বুঝে পেয়েছে।”

তবে পুরো প্রক্রিয়াটি ঘটা করে গণমাধ্যমের সামনে সম্পন্ন করা এবং ‘পেমেন্ট ক্লিয়ার’ ঘোষণা—ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে একেবারেই বিরল ঘটনা। বিশ্বব্যাপী বড় লিগগুলোতে এ ধরনের বিষয় সাধারণত আড়ালেই থাকে। ১২ বছর পেরিয়েও বিপিএলে এমন অপেশাদারিত্বের প্রশ্ন উঠছে।

এ প্রসঙ্গে ইফতেখার রহমান বলেন, “আক্ষেপ তো আছেই। তবে আমাদের দুটি লক্ষ্য ছিল—খেলোয়াড়দের পূর্ণ পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা এবং ইন্টিগ্রিটি বজায় রাখা। আমরা দুটোতেই সফল হয়েছি।”

অন্যান্য দলগুলোর পারিশ্রমিক পরিস্থিতিও তুলে ধরেন তিনি। রাজশাহী ইতোমধ্যেই সব পরিশোধ করেছে। রংপুর রাইডার্স দিয়েছে ৭৫ শতাংশ। নোয়াখালীর খেলোয়াড়দের বকেয়া ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বিসিবির কাছে থাকা সিকিউরিটি মানি থেকে পরিশোধ করা হবে। ঢাকার ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে রাখা ৫ কোটি টাকার চেক রয়েছে, তারা এক সপ্তাহ সময় চেয়েছে। সিলেটও কিছুটা সময় নিয়েছে।

ইফতেখার মিঠুর আশা, রমজানের মধ্যেই সব দলের বকেয়া পরিশোধ সম্পন্ন হবে।

স্বস্তির খবর—খেলোয়াড়রা তাদের প্রাপ্য পাচ্ছেন। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—বছরের পর বছর পেরিয়েও কেন বিপিএল পুরোপুরি পেশাদার কাঠামোয় দাঁড়াতে পারছে না?