লাইফস্টাইল

দিন ও রাতের রূপচর্চা কেন আলাদা হওয়া জরুরি

ত্বক ভালো রাখতে দিন ও রাতে রূপচর্চা আলাদা হওয়া দরকার। কারণ দিনের বেলায় ত্বককে কড়া রোদ, ধুলো ও দূষণের সঙ্গে লড়তে হয়। তাই দিনের রূপচর্চার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সুরক্ষা। অন্যদিকে, রাত হলো ত্বকের পুনরুজ্জীবনের সময়। ঘুমের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ নিজে থেকেই মেরামত হয় এবং ত্বক নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করে। এই সময় ত্বকের বাড়তি আর্দ্রতা ও পুষ্টির প্রয়োজন হয়। লক্ষ্য যখন আলাদা, তখন যত্নও আলাদা হওয়াই স্বাভাবিক।

ক্লিনজার: পরিষ্কার করার ধরনেও পার্থক্য সকালে ক্লিনজার বা ফেসওয়াশ ব্যবহারের উদ্দেশ্য হলো রাতের ঘাম, অতিরিক্ত ক্রিম বা জমে থাকা ময়লা দূর করে ত্বককে দিনের জন্য প্রস্তুত করা। অথচ রাতে একই ক্লিনজারের ভূমিকা ভিন্ন। দিনের শেষে মুখে জমে থাকা ধুলো, দূষণ ও মেকআপ ভালোভাবে তুলে ফেলা জরুরি। তাই প্রথমে মাইসেলার ওয়াটার বা অয়েল-বেসড মেকআপ রিমুভার দিয়ে মেকআপ ও ময়লা সরিয়ে নিতে হবে। এরপর ফেসওয়াশ বা প্রয়োজন হলে হালকা স্ক্রাব ব্যবহার করে মুখ পরিষ্কার করা উচিত।

সিরাম: সময় বুঝে নির্বাচন সকাল ও রাতের সিরাম কখনও এক হওয়া উচিত নয়। কিছু সিরাম আলো-সংবেদনশীল—যেমন রেটিনল। এটি বলিরেখা কমাতে কার্যকর হলেও রোদে গেলে ত্বকে কালচে দাগ ফেলতে পারে। তাই রেটিনল কেবল রাতেই ব্যবহার করা উচিত। আবার হায়ালুরোনিক অ্যাসিড দিন ও রাত—দুই সময়েই ব্যবহার করা যায়। গ্লাইকোলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন সি সিরামও দিনে ব্যবহার করা সম্ভব, তবে এর সঙ্গে অবশ্যই সানস্ক্রিন লাগাতে হবে।

ময়েশ্চারাইজার: হালকা বনাম পুষ্টিকর দিনের বেলায় ঘাম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই হালকা ও অয়েল-ফ্রি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো। রাতে এমন ময়েশ্চারাইজার বেছে নিতে হবে, যা দীর্ঘসময় আর্দ্রতা ধরে রাখবে এবং ত্বককে পুষ্টি জোগাবে। চাইলে ‘নাইট ক্রিম’ ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ত্বকের পুনর্গঠনে সহায়তা করে।

সানস্ক্রিন: দিনের অপরিহার্য সঙ্গী দিনের রূপচর্চায় সানস্ক্রিন অপরিহার্য। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করে, রুক্ষতা ও দাগ সৃষ্টি করে। সানস্ক্রিন এই ক্ষতি থেকে ত্বককে সুরক্ষা দেয়। রাতে রোদ না থাকলেও দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহারে ব্লু-লাইটের প্রভাব থেকে ত্বক রক্ষা করতে বিশেষ ধরনের প্রটেকটিভ ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।