ঝালকাঠির রাজাপুরে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, কর্মচারীসহ ৮৬ পদ শূন্য থাকায় সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ। পদগুলো প্রায় ১৫ বছর ধরে বিভিন্ন মেয়াদে শূন্য রয়েছে বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে ৯ জন চিকিৎসক, ৭ জন দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মচারী, ৪২ জন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী, ১৭ জন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও বাস্তবে সেবাদানের ক্ষেত্রে কোনো উন্নতি ঘটেনি। অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করা হলেও নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ফলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে রোগী এসে চিকিৎসক না পেয়ে জেলা সদর হাসপাতালে চলে যাচ্ছেন। বিনা ব্যবহারে অপারেশন থিয়েটারের মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় জরুরি বিভাগে হাসপাতালের পিয়ন, ওয়ার্ড বয়দের বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা করেন। এমনকি ব্যান্ডেজ, সেলাইসহ ছোটখাটো বিভিন্ন অস্ত্রোপচার তারাই করেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সূত্রে জানা গেছে, জুনিয়র কনসালটেন্ট ৯টি, সহকারী সার্জন ১০টি, দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের মধ্যে ৭টি, তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী ৮টি, এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্টের পদটি প্রায় ১০ বছর শূন্য রয়েছে। ফলে রোগীদের স্থানীয় ক্লিনিক থেকে চড়া মূল্যে সেবা নিতে হচ্ছে।
এ ছাড়াও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কার্ডিওগ্রাফার, কম্পাউন্ডার, অফিস সহকারী, সহকারী নার্সসহ অন্যান্য ৪২টি পদ শূন্য রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের মধ্যে অফিস সহায়ক, ওয়ার্ড বয়, আয়া, কুক, পরিছন্নতাকর্মীসহ ১৭টি পদ শূন্য।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবুল খায়ের মাহমুদ রাসেল বলেন, ‘‘বর্তমানে তিনজন ডাক্তার দিয়ে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই ৬-৭ জন ডাক্তার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যুক্ত হতে যাচ্ছেন। তাহলে ডাক্তার সংকট থাকবে না। তবে অন্যান্য সংকট লিখিত ও মৌখিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।’’