জাতীয়

ফুলেল শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের স্মরণ করছে জাতি

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছে জাতি। একুশের প্রথম প্রহরেই ফুলেল অর্ঘ্যে ভরে উঠেছে শহীদ মিনারের বেদি। 

২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে রাত ১২টায় মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

এরপর মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধানরা, বিদেশি কূটনীতিক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিরোধীদলীয় নেতৃবৃন্দ পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। রাত ১২টা ৪০ মিনিটে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

রাতেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা সংগঠন পর্যায়ক্রমে ভাষাশহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। এ সময় অনেককে খালি পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নিতে দেখা যায়। কারও হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, কারও হাতে ব্যানার ও ফেস্টুন। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ভেসে ওঠে কালজয়ী গান  ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’। 

এরপর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাড়তে থাকে সাধারণ মানুষের ভিড়।  

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা বলেছেন, “একুশ কেবল শোকের দিন নয়; এটি বাঙালির আত্মপরিচয় ও চেতনার প্রতীক।”

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় সদস্য মোজাফফর মিয়া বলেন, “ভাষার জন্য জীবনদানকারী শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ভিত্তি। নতুন প্রজন্মকে একুশের চেতনা ধারণ করতে হবে।”

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘প্রচেষ্টা’র কেন্দ্রীয় সভাপতি সামিউল সাগর বলেন, “মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সবার দায়িত্ব রয়েছে। শুধু একদিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, সারা বছর বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।”

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সম্পাদক কৃতিত্ব চাকমা বলেন, “একুশে ফেব্রুয়ারি সকল ভাষার অধিকার আদায়ের অনুপ্রেরণা জোগায়। সকল মাতৃভাষা সমান মর্যাদা পাবে—এটাই প্রত্যাশা।”

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও জানান, একুশ তাদের কাছে আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও গৌরবের ইতিহাস। শহীদ মিনারে এসে তারা ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপশি বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার করেন।