কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপে কেয়াগাছ কেটে রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) টেকনাফ থানায় এ মামলা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. মুসাইব ইবনে রহমান।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম রাইজিংবিডি ডটকমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেছেন, “পরিবেশ অধিদপ্তর বাদী হয়ে মামলাটি করেছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
মামলার আসামিরা হলেন— সেন্টমার্টিন দক্ষিণ পাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে কেফায়েত উল্লাহ এবং রিসোর্টের মালিক নুর মোহাম্মদ খান।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সেন্টমার্টিনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাড়া এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণের জন্য বেশকিছু কেয়াগাছ কাটা হয়েছে। অভিযোগ পেয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি দল সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পায়।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেছেন, “সমুদ্র সৈকত-সংলগ্ন এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণের উদ্দেশ্যে গাছ কাটার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এতে আরো কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সেন্টমার্টিনের স্থানীয় বাসিন্দা তৈয়ব উল্লাহ বলেন, “দ্বীপের দক্ষিণ পাড়ায় চারদিকে ঘন কেয়াবন ছিল। সেগুলো এখন উজাড় হয়ে গেছে। সারি সারি কেয়াগাছ কেটে ফেলা হয়েছে, যা দ্বীপের পরিবেশ ও সৌন্দর্যের জন্য বড় ক্ষতি। কেয়াবন দ্বীপের রক্ষাকবচ। এগুলো না থাকলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে।”
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেছেন, “কেয়াগাছ কাটার দায়ে দুজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে জেনেছি। ওই এলাকায় গিয়ে দেখি, দু’-একটা গাছ কেটেছে। আমাদের সবার সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কেয়াবন নামের এই রক্ষাকবচ যদি ধ্বংস হয়, তাহলে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কেয়াবন অক্ষুণ্ন রাখাই আমাদের দায়িত্ব।”
১৯৯৯ সালে সেন্টমার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। এ আইনে দ্বীপে এমন কার্যক্রম নিষিদ্ধ, যা পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে। ২০২২ সালের সরকারি প্রজ্ঞাপনে দ্বীপটিকে সামুদ্রিক সুরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয় এবং দ্বীপে ইট-সিমেন্ট নেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়।