দেহঘড়ি

সেহেরিতে ফ্রিজের ঠান্ডা ভাত গরম করে খাওয়া কী নিরাপদ

সেহেরিতে অনেকেই রাতের ভাত গরম করে খান। আবার দ্বিধায় থাকেন এই ভেবে যে, ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা ভাত গরম করে খাওয়া কী নিরাপদ?- বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঠান্ডা ভাত গরম করে খাওয়া নিরাপদ  হবে কিনা, তা নির্ভর করে এটি কীভাবে সংরক্ষণ ও গরম করা হচ্ছে, তার ওপর। 

ঠান্ডা ভাত গরম করে খাওয়ার পরে উপকার পাওয়া যেতে পারে যদি নিরাপদে সংরক্ষণ করা যায়। ভাত নিরাপদ রাখতে নিচের নিয়মগুলো অনুসরণ করুন—

রান্নার এক ঘণ্টার মধ্যে ভাত ঠান্ডা করে ফেলুন।এরপর দ্রুত ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। সেহেরিতে ভাত গরম করার সময় নিশ্চিত করুন, সব ভাত সমানভাবে ভালোভাবে গরম হয়েছে।একই ভাত একাধিকবার গরম করবেন না।

ফ্রিজের ভাত গরম করে খাওয়ার সম্ভাব্য উপকারিতা

ডায়াবেটিসকে অনেকেই লাইফস্টাইল ডিজিজ বলে থাকেন। বিশেষ করে টাইপ–২ ডায়াবেটিসে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI)। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কী?— যেসব কার্বোহাইড্রেট দ্রুত রক্তে মিশে গিয়ে শর্করার মাত্রা বাড়ায়, তাদের GI বেশি। আর যেগুলো ধীরে শোষিত হয়, তাদের GI কম বা মাঝারি। ভাতের GI তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ব্লাড সুগারের রোগীদের মধ্যে ভাত খাওয়া নিয়ে দ্বিধা থাকে।

গবেষণায় কী পাওয়া গেছে? National Institutes of Health (এনআইএইচ)–এর ২০২২ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়— সদ্য রান্না করা ভাতের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স প্রায় ৭৮। ভাত ১৬–২০ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে পরে হালকা গরম করে খেলে GI কমে প্রায় ৫৪–এ নেমে আসে।এর কারণ, ঠান্ডা ভাতে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ তৈরি হয়, যা শরীরে ধীরে শোষিত হয়।

এ ছাড়া Poznan University of Medical Sciences–এর এক গবেষণায় টাইপ–১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ৩২ জন রোগীর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, ২৪ ঘণ্টা ঠান্ডা করে আবার গরম করা ভাত খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক কম বৃদ্ধি পায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা ঠান্ডা করে পুনরায় গরম করা ভাতে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চের পরিমাণ বাড়ে। ফলে—গ্লুকোজ স্পাইক কম হয়,  দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে এবং হঠাৎ ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা কমে।

পুষ্টিবিদরা বলেন,  রোজার সময় একেবারে ‘নো কার্ব’ ডায়েট না করে পরিমিত পরিমাণে এভাবে ভাত খাওয়া তুলনামূলক ভালো বিকল্প হতে পারে।

ফ্রিজে রাখা ভাত গরম করে খেলে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কমে যেতে পারে, যা ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে যাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আছে, তাদের অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সূত্র: হেলথলাইন