শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালযয়ে (শাবিপ্রবি) অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ তুলে পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) বিভাগের শিক্ষার্থীরা গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন; যা বর্তমানে চলমান। নিয়োগ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রমে না ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থী তাজবিউল ইসলাম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারির বিজ্ঞপ্তিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.৫০ চাওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর স্নাতকে সিজিপিএ ছিল ৭.৩৫ (ভারতীয় গ্রেডিং পদ্ধতিতে), যা বাংলাদেশের প্রচলিত ৪ স্কেলে রূপান্তর করলে ৩.২১ হয় বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।
অভিযোগ রয়েছে, ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ না করেও তাকে মৌখিক পরীক্ষার কার্ড দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বিভাগীয় সূত্র জানায়, গত ৮ অক্টোবর গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে বলে মত দেয়। কমিটি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের বেতন-ভাতা স্থগিত ও চাকরিচ্যুতির বিষয়ে কারণ দর্শানোর সুপারিশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৫তম সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে আইন উপদেষ্টার মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে এখন পর্যন্ত সেই মতামত নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তাজউদ্দিন বলেন, “আমার কাছে মন্তব্য চাওয়া হয়েছে কিনা বা আমি মন্তব্য দিয়েছি কিনা—ফাইল না দেখে বলতে পারব না।”
এদিকে নিয়োগের প্রায় দেড় বছর পর চাকরিতে যোগদানে বিরত রাখার প্রেক্ষিতে গত ২৫ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট শিক্ষক হাইকোর্টে রিট করেন। ২ ফেব্রুয়ারি রিটের কপি নিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন।
২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুহয়ী শারদ বলেন, “আবেদনের জন্যই অযোগ্য একজনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিরুদ্ধে আমরা শুরু থেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। দেড় বছর ধরে প্রশাসনের কাছে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি জানালেও কেবল আশ্বাস পেয়েছি, সমাধান পাইনি। এই অবৈধ নিয়োগের প্রতিবাদে ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে আমরা বিভাগের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রেখেছি। দ্রুত সমাধান না হলে আরো কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।”
বিভাগীয় অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি তানজিদ রহমান অপূর্ব বলেন, “দেড় বছর ধরে আমরা এই নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছি। প্রথমে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, পরে অগ্রগতি না হওয়ায় ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু, প্রশাসন প্রতিবারই আশ্বাস দিলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। আমাদের একটাই দাবি—এই নিয়োগ বাতিল করতে হবে।”
পিএমই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, “যে সময়ে নিয়োগটি দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অনিয়মের মাধ্যমে হয়েছে। প্রার্থীর ন্যূনতম যোগ্যতাই ছিল না। আমি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পক্ষে।”
তিনি আরো বলেন, “বিভাগে শিক্ষক সংকট থাকলেও অনিয়ম করে নিয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়। বর্তমানে রিট খারিজের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আপিল করেছে এবং বিষয়টি আগামী সপ্তাহে চেম্বার জজ আদালতে উঠতে পারে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সাজেদুল করিম বলেন, “রিট খারিজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় প্রধানের পছন্দ অনুযায়ী আইনজীবী নিয়োগ দিয়েই বিষয়টি পরিচালনা করা হচ্ছে।”
অভিযুক্ত শিক্ষক তাজবিউল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।