আন্তর্জাতিক

এতিম ও বিধবাদের দেশ ইউক্রেন

ইউক্রেনের যুদ্ধ চতুর্থ বছরে প্রবেশ করার সাথে সাথে দেশটিতে জন্মহার হ্রাস পাচ্ছে। সন্তান ধারণের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শরণার্থী হিসেবে পালিয়ে যাওয়া লাখ লাখ মানুষ এখন বিদেশে বসতি স্থাপন করেছে। এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ জনসংখ্যাগত সংকটগুলোর মধ্যে একটিতে পড়েছে ইউক্রেন।

শীর্ষস্থানীয় ইউক্রেনীয় জনসংখ্যাবিদ এলা লিবানোভা সিএনএনকে বলেছেন, “এটি একটি বিপর্যয়। মানুষ ছাড়া কোনো দেশই টিকে থাকতে পারে না। যুদ্ধের আগেও, ইউক্রেনের জনসংখ্যার ঘনত্ব কম (এবং) খুব অসমভাবে ছড়িয়ে ছিল।”

তিনি জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউক্রেন প্রায় ১ কোটি মানুষকে হারিয়েছে - যাদের মধ্যে নিহত হয়েছেন, দেশ ছেড়ে চলে গেছেন অথবা রাশিয়ার দখলে থাকা এলাকায় বসবাস করছেন। দেশটির জন্মহার বছরের পর বছর ধরে হ্রাস পাচ্ছে। রাশিয়ার বিনা প্ররোচনায় আগ্রাসন লাখ লাখ ইউক্রেনীয়কে তাদের জীবন আটকে রাখতে বাধ্য করেছে। কিন্তু অনেক নারীর জন্য, এই সিদ্ধান্তের বিশাল মূল্য দিতে হতে পারে।

ইউক্রেনের প্রজনন চিকিৎসার অন্যতম পথিকৃৎ ডা. ভ্যালেরি জুকিন সিএনএনকে বলেন, “যুদ্ধ ইউক্রেনের জন্ম হারের উপর বিধ্বংসী প্রভাব ফেলছে। আমি নিজের চোখেই তা দেখতে পাচ্ছি। আমরা আরো জটিলতা, আরো অস্বাভাবিকতা, গর্ভাবস্থাকে দীর্ঘায়িত করতে আরো অসুবিধা দেখছি।

তিনি জানান, গর্ভপাত হওয়া ভ্রূণের উপর নিয়মিত জেনেটিক পরীক্ষা থেকে জানা গেছে যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ক্রোমোজোম অস্বাভাবিকতার ঘটনা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রজনন বিশেষজ্ঞ ডা. আল্লা বারানেনকো জানান, তিনি অল্পবয়সী মহিলাদের মধ্যে অকাল মেনোপজের ঘটনা আরো বেশি দেখতে পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, “ডিম্বাণুর মান খারাপ এবং তাদের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে - এবং এটি মানসিক চাপের কারণে এবং এটি কেবল আমার রোগী নয়, এটি ডিম্বাণু দাতাদেরও। তাদের ডিম্বাণুর মান আরো খারাপ।”

তিনি জানান,, ইউক্রেনীয় পুরুষদের, বিশেষ করে যারা যুদ্ধ থেকে ফিরে আসছেন, তাদের শুক্রাণুর মানও খারাপ।

ইউক্রেনে একদিকে যেমন জন্মহার কমছে আরেকদিকে বিধবা নারীদের সংখ্যাও বাড়ছে।

ইউক্রেন তার হতাহতের তথ্য প্রকাশ করে না। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে যে চার বছর আগে পূর্ণমাত্রায় আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এক লাখ থেকে এক লাখ ৪০ হাজার ইউক্রেনীয় নিহত হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান দেখায় যে ইউক্রেনে এখন ৫৯ হাজার শিশু তাদের জৈবিক পিতামাতা ছাড়া বসবাস করছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় দুই লাখ নারী বিধবা হয়েছে। এদের অধিকাংশের বয়স ৪০ বছরের কম। এর ফলে ইউক্রেন এখন পরিণত হয়েছে এতিম ও বিধবাদের দেশে।