যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ তুষারঝড় আঘাত হানতে শুরু করেছে। এর ফলে প্রায় ৫ কোটি ৯০ লাখ মানুষ আবহাওয়া সতর্কতার আওতায় রয়েছে। ঝড়ের কারণে অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং নিউ ইয়র্ক সিটিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, নিউ জার্সি এবং রোড আইল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। তুষারঝড়ের কারণে বেশ কিছু রাজ্য যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং কানাডার মেরিটাইম অঞ্চলের একটি বড় অংশ এই ঝড়ের কবলে থাকবে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি গত এক দশকের মধ্যে এই অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী ‘নর’ইস্টার' ঝড় হতে যাচ্ছে, যা প্রচুর তুষারপাত, তীব্র বাতাস এবং উপকূলীয় বন্যার কারণ হবে।
পাওয়ারআউটলেজ ডট ইউএস-এর তথ্যমতে, নিউ জার্সিতে ইতোমধ্যেই ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। ভার্জিনিয়া, ডেলাওয়্যার এবং ম্যারিল্যান্ডেও হাজার হাজার মানুষ অন্ধকারে রয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩ হাজার ৯০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক সিটির পরিস্থিতি
নিউ ইয়র্ক সিটিতে গত নয় বছরের মধ্যে এই প্রথম তুষারঝড় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শহরের মেয়র জোহরান মামদানি রবিবার রাত ৯টা থেকে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত পূর্ণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। জরুরি সেবা ছাড়া সব রাস্তা, হাইওয়ে এবং ব্রিজ বন্ধ থাকবে এবং স্কুলগুলো ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
মেয়র জানান, কিছু এলাকায় ২৮ ইঞ্চি (০.৭ মিটার) পর্যন্ত তুষারপাত হতে পারে। মেয়র হিসেবে এটি তার প্রশাসনের দ্বিতীয় বড় তুষারঝড় মোকাবেলা। এর আগে জানুয়ারিতে তিন সপ্তাহের শৈত্যপ্রবাহে ১৯ জন মারা গিয়েছিল।
নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল পুরো রাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং ন্যাশনাল গার্ডের ১০০ সদস্যকে মোতায়েন করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “মানুষ অন্ধকারে (বিদ্যুৎহীন) থাকবে... লং আইল্যান্ড, নিউ ইয়র্ক সিটি এবং লোয়ার হাডসন সরাসরি ঝড়ের মুখে রয়েছে।”
অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের অবস্থা
রোড আইল্যাল্ডের গভর্নর ড্যান ম্যাকি রাজ্যজুড়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন এবং সোমবার সরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করেছেন।
নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং সব ধরনের বাস ও লাইট রেল পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি এটিকে ১৯৯৬ সালের পর থেকে ‘সবচেয়ে ভয়াবহ ঝড়’ হতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন।
কানেকটিকাটের গভর্নর নেড ল্যামন্ট হাইওয়েতে সব ধরনের বাণিজ্যিক যানবাহন চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।
পেনসিলভেনিয়ার গভর্নর জোশ শাপিরো দুর্যোগ ঘোষণা পত্রে স্বাক্ষর করেছেন এবং বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়াতে বলেছেন।
কানাডার নোভা স্কোটিয়াতেও সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত কমলা অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে, সেখানেও এই ঝড়ের ব্যাপক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।