দেহঘড়ি

৪০ বছর বয়সের পর পুরুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কতটা জরুরি?

বয়স ৪০ এর কোঠায় পৌঁছালে শুধুমাত্র নারীর শরীরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। ৪০ বছরের পর পুরুষদের শরীরেও স্বাভাবিকভাবেই কিছু হরমোনগত ও শারীরিক পরিবর্তন শুরু হয়। বিশেষ করে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকে, যা অনেক ক্ষেত্রে শক্তি হ্রাস, অবসাদ, যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া, পেশিশক্তি হ্রাস কিংবা মেজাজের পরিবর্তনের কারণ হতে পারে। এই সময় নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী এই সম্পর্কে কী বলে, জেনে নিন।

ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ—এসব কারণ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, লিভারের সমস্যা ও হরমোনজনিত জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়। যারা দীর্ঘদিন স্টেরয়েড বা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ সেবন করেন, তাদের ক্ষেত্রেও দ্রুত অ্যান্ড্রোপজের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

স্বাস্থ্যপরীক্ষা কেন প্রয়োজন? চিকিৎসকদের মতে, ৪০-এর পরে বছরে অন্তত একবার পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী হরমোন সংক্রান্ত পরীক্ষাও করা যেতে পারে।

নিয়মিত যে পরীক্ষাগুলি করানো জরুরি—লিভারের কার্যক্ষমতা পরীক্ষা,  ইসিজি (হৃদযন্ত্রের পরীক্ষা), কোলেস্টেরল ও লিপিড প্রোফাইল, ভিটামিন ডি৩ এবং প্রয়োজন হলে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা।টেস্টোস্টেরনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শে টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি নেওয়া যেতে পারে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধ বা থেরাপির আগে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জীবনযাপনে কী পরিবর্তন জরুরি?

১. পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণ। খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখা।

২. নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ও শরীরচর্চা। সম্ভব হলে খেলাধুলায় যুক্ত হওয়া।

৩. প্রতিদিন কিছু সময় রোদে থাকা ও খোলা হাওয়ায় সময় কাটানো।

৪. ধূমপান ও মদ্যপান নিয়ন্ত্রণ বা পরিহার করা।

৫. অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার কমানো।

৬. যোগব্যায়াম অভ্যাস করা।

৭. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিশ্চিত করা।

সচেতনতা কেন জরুরি? অনেক পুরুষই বয়সজনিত শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন নন। ফলে যৌন ক্ষমতা হ্রাস বা শারীরিক দুর্বলতার কারণে হীনম্মন্যতায় ভোগেন। বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা না থাকায় মানসিক চাপ আরও বাড়ে।

অন্যদিকে, অনেকেই ছোটখাটো শারীরিক সমস্যাকে গুরুত্ব দেন না, যা পরে বড় রোগে পরিণত হতে পারে। তাই নিয়মিত পরীক্ষা, সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এই তিনটি বিষয়ই ৪০-এর পর সুস্থ জীবনের মূল চাবিকাঠি।