খেলাধুলা

সেঞ্চুরিতে ব্রুকের শাসন, বিপর্যস্ত পাকিস্তান

শাহীন শাহ আফ্রিদির বলে এগিয়ে এসে ডিপ কাভার দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়েই যেন সেঞ্চুরির পথে নিজের আধিপত্য জানান দেন হ‌্যারি ব্রুক। পাকিস্তানের ডাগআউটে বসে কোচ মাইক হেসন বিস্ময়ে তাকিয়ে সেই শট উপভোগ করেছেন, দিয়েছেন বাহবাও।

৯০ থেকে ৯৬—একটি ছক্কা। পরের বলেই লং অন দিয়ে চার। ৫০ বলে পূর্ণ করেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। আফ্রিদির স্লোয়ারে নিখুঁত টাইমিং মিলতেই যেন আগেভাগেই উদযাপন শুরু করেছিলেন ইংল্যান্ডের এই ব্যাটার।

পাল্লেকেল্লেতে পাকিস্তানের দেওয়া ১৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্রুকের ব্যাটে ভর করেই ৫ বল হাতে রেখে ২ উইকেটের জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড। এই জয়ে শ্রীলঙ্কার পর পাকিস্তানকেও হারিয়ে আগেভাগেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে এখনও একটি ম্যাচ বাকি ইংল্যান্ডের।

ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। ইনিংসের প্রথম বলেই শাহীন শাহ আফ্রিদির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ফিল সল্ট। আফ্রিদির পরের দুই ওভারে ফেরেন জস বাটলার ও জ‌্যাকব বেথেল। স্পিনার উসমান তারিক নিজের প্রথম ওভারেই তুলে নেন টম ব‌্যানটনকে। ৫৮ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ইংল্যান্ড।

সেখান থেকে ব্রুক লড়াই শুরু করেন। সাম কারানের সঙ্গে ২৮ বলে ৪৫ রানের জুটি গড়ে দলকে ম্যাচে ফেরান। পরে উইল জ‌্যাকসের সঙ্গে ৩১ বলে ৫২ রানের জুটি গড়ে জয়ের পথ সহজ করেন। যদিও ব্রুক, জ্যাকস ও ওভারটন দ্রুত আউট হওয়ায় ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়, তবে শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করতে ভুল করেনি ইংল্যান্ড।

ব্রুকের ইনিংস ছিল অসাধারণ—১০ চার ও ৪ ছক্কায় গড়া তার সেঞ্চুরি ইনিংসই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। সেঞ্চুরির পরের বলেই আউট হলেও কাজটা সেরে গিয়েছিলেন তিনি।

পাকিস্তানের শুরু ও মাঝের ব্যাটিংয়ে যাও প্রাণ ছিল, শেষের ব্যাটিং ছিল একেবারে যাচ্ছেতাই। শেষ ৫ ওভারে ৫২ রান তুলতে ৬ উইকেট হারায় তারা। তাতে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে তাদের। 

ওপেনিংয়ে নামা শাহিবজাদা ফারহান ৬৩ রান করেন ৪৫ বলে। ৭ চার ও ২ ছক্কায় সাজান ইনিংসটি। মিডল অর্ডারে তিন ব্যাটসম্যান ভালো শুরু পেলে ইনিংস বড় করতে পারেননি কেউ। ধীর গতির ব্যাটিংয়ে প্রবল সমালোচনায় থাকা বাবর আজও পারেননি খোলস থেকে বেরিয়ে আসতে।

২৪ বলে ২৫ রান করেন ২ বাউন্ডারি। প্রথমবার খেলতে নামা ফখর জামান ১৬ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় ২৫ রান করেন। শাদাব খান ১১ বলে ২৩ রান করেন। বাকিরা এসেছেন আর ফিরেছেন। শুরুতে রান পাননি সাইম আইয়ুব (৭) ও সালমান আগা (৫) । 

ইংল্যান্ডের হয়ে বল হাতে ৩ উইকেট নেন ব্রুক। এছাড়া দুটি করে উইকেট পান জফরা আর্চার ও জেমি ওভারটন। 

একক বীরত্বে দলকে সেমিফাইনালে তোলার দিনে নায়ক হয়ে থাকলেন ব্রুকই।