সারা বাংলা

মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা

বগুড়ায় একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে সামিউল হাসান শুভ (৩৩) নামে ব্যাংক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখে স্বজনরা এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হুমায়ুন নামে নিরাময় কেন্দ্রের এক কর্মীকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার সাবগ্রাম এলাকায় অবস্থিত মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ঘটনাটি ঘটে। 

মারা যাওয়া শুভ কাহালু উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বগুড়ায় জনতা ব্যাংক দুপচাঁচিয়া শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শুভকে অসুস্থ অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের দুলাভাই এটিএম ফরহাদ সোহাগ বলেন, ‍“চলতি মাসের ১৩ তারিখে মানসিক সমস্যার কারণে একজন চিকিৎসকের পরামর্শে শুভকে মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।”

তিনি দাবি করেন, “সামিউল মাদকাসক্ত ছিলেন না। প্রায় এক মাস আগে তিনি ডাকাতির শিকার হন এবং সে সময় তাকে মারধর করা হয়। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ও ট্রমায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শেই তাকে কিছুদিন পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার জন্য কেন্দ্রে রাখা হয়। মঙ্গলবার হঠাৎ রাত ৯টার দিকে নিরাময় কেন্দ্র থেকে ফোন করে জানানো হয়, শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আমাদেরও সেখানে যেতে বলা হয়। হাসপাতালে গিয়ে আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পাই।”

নিহতের চাচাতো ভাই তাপস বলেন, “কয়েকদিন আগে আমার সঙ্গে শুভর কথা হয়েছে। তখন তাকে সুস্থ ও স্বাভাবিক মনে হয়েছে। তার গুরুতর কোনো শারীরিক অসুস্থতার কথা আমাদের জানানো হয়নি। হাসপাতালে গিয়ে তার মরদেহে একাধিক দাগ দেখতে পাই। তার ডান হাত ও ডান পাশের পাঁজরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমাদের ধারণা, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।”

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায়। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

তিনি আরো বলেন, “মাদক নিরাময় কেন্দ্রের কর্মী হুমায়ুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনিই শুভকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। হাসপাতাল থেকেই তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।”