ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুদিনের সফরে ইসরায়েল পৌঁছেছেন। এই সফরে ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক ও বেসামরিক সহযোগিতার একাদিক চুক্তি করতে যাচ্ছেন মোদি। তবে এই সফরের আগেই যে বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে সেটি হচ্ছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত হেক্সাগন অ্যালায়েন্স। এই জোটের মাধ্যমে কট্টর সুন্নি ও শিয়া মতাদর্শী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নেতানিয়াহু ও মোদি ধর্মীয় ভিত্তিতে তাদের নিজস্ব উগ্র জাতীয়তাবাদের ব্র্যান্ড তৈরি করেছেন। তাই ধারণা করা হচ্ছে, নেতানিয়াহুর প্রস্তাব গ্রহণ করে জোটে যোগ দেবেন মোদি।
নেতানিয়াহু এবং মোদির অধীনে ২০১৪ সাল থেকে ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়েছে। ফ্রান্সের পর ইসরায়েল ভারতের বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে।
২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভারত রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং ড্রোন সহ ইসরায়েলি অস্ত্রের জন্য ২০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, যা ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানির এক তৃতীয়াংশেরও বেশি।
এই সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইসরায়েলের তৈরি অস্ত্র কেনার জন্য ভারত ৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার মধ্যে রয়েছে এয়ার লোরা এয়ার-টু-সারফেস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। বিমান-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সাইবার নিরাপত্তা এবং অন্যান্য বিষয়েও সহযোগিতা করার জন্য একমত হয়েছে ইসরায়েল ও ভারত।
গাজায় গণহত্যার সময় ভারত ইসরায়েলে অস্ত্রের একটি নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী ছিল। ইসরায়েলের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র, বিস্ফোরক এবং ড্রোন পাঠিয়েছিল ভারত। অনেক দেশ ইসরায়েলের গণহত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ এড়াতে এই ধরনের রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে ভারত সেই কাজটি করেনি।
কিন্তু এই সম্পর্কের আরেকটি উপাদান রয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রীরা ধর্মীয় ভিত্তিতে তাদের নিজস্ব হাইপার-জাতীয়তাবাদের ব্র্যান্ড তৈরি করেছেন। তারা তাদের নিজ নিজ অঞ্চলে সামরিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে এবং তাদের প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে সামরিক আক্রমণ শুরু করেছে।
নেতানিয়াহু এবং মোদি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বৈষম্যমূলক নীতির আন্তর্জাতিক অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।