সারা বাংলা

ফেনীতে তাঁতীদল নেতাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা

ফেনীর সোনাগাজীতে প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের সন্দেহে আইয়ুব নবী তারেক নামে তাঁতীদলের এক নেতাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। 

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের গুনক গ্রামে তাকে হত্যা করা হয়।

এ ব্যাপারে জানতে সোনাগাজী মডেল থানার ওসি কামরুজ্জামানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

তাঁতীদল বিএনপির অন্যতম সহযোগী সংগঠন, যেটি ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠার পর এখন সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত।

তারেক বগাদানা ইউনিয়ন তাঁতীদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি গুনক গ্রামের লক্স মালের বাড়ির কামাল উদ্দিনের ছেলে।

তারেকের বাবা কামাল উদ্দিন বলেন, “ইফতারের পর একই বাড়ির ওহিদুর রহমানের স্ত্রী নাহার আমার ছেলেকে তাদের ছেলে নাহিদ ও তার স্ত্রীর চলমান পারিবারিক সমস্যা সমাধানের কথা বলে ডেকে নেন। তারেক ঘটনাস্থলে গেলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে নাহিদ, সাঈদ, নিলয় ও নাহার দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে।”

“হামলার মধ্যে আমার ছেলে সেখানে বমি করে দেয়,” যোগ করেন কামাল উদ্দিন।

তিনি বলেন, “মারধরের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি আমার ছেলের নিথর দেহ মাটিতে পড়ে রয়েছে। ওহিদুর রহমান আমার ছেলেকে ‘ডাকাত’ বলে চিৎকার করছিল। তখনো লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করছিল।”

“আমি এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই,” বলেন তারেকের বাবা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, নিহত তারেকের সঙ্গে অভিযুক্ত নাহিদের স্ত্রীর গোপন সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন ছিল। এটিকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।

আবদুল গফুর নামে কামাল উদ্দিনের এক প্রতিবেশী বলেন, “কিছুদিন আগে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল হক চৌধুরীর কাছে নাহিদ তার স্ত্রীর সঙ্গে তারেকের সম্পর্ক রয়েছে জানিয়ে অভিযোগ করে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুরোধ জানান। তবে তারেক এই ধরনের কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে আমার জানা নেই। সেই ঘটনার জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড।” 

এদিকে খবর পেয়ে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি কামরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় অস্ত্র (কিরিচ) উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।