কক্সবাজারের কলাতলীতে নবনির্মিত গ্যাস পাম্পে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে নয়জন দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্য জানান।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাম্পের গ্যাস লাইনে লিকেজ দেখা দেয়। রাত ১০টার দিকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর আশপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে গ্যাস বাতাসে মিশে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় রাত পৌনে ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
দগ্ধদের মধ্যে আবু তাহেরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। চারজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্যরা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সচিব সাইদুর রহমান খান জানান, এলপিজি ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস লিকেজের কারণে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে। ঘটনার বিস্তারিতভাবে তদন্ত করার জন্য পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
দগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন, সাকিব (২৫), সিরাজ (২৪), আব্দুর রহিম (৪৬), মোতাহের (৪৫), কামরুল হাসান (৩০), আবু তাহের (৪৫), মেহেদী (২৬), খোরশেদ আলম (৫৩) ও টিটন সেন (৪০)।
অগ্নিকাণ্ডে ফিলিং স্টেশনসহ অন্তত ১০টি বসতবাড়ি ও ২০টির বেশি গাড়ি পুড়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাম্পটি থেকে গ্যাস ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে গ্যাস বাতাসে মিশে আশপাশের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস এসে মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গ্যাস লিকেজ বন্ধের চেষ্টা করে। তবে রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায়। ছড়িয়ে পড়তে থাকে আশপাশের এলাকাতেও। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও ডিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ জানান, বুধবার রাত পৌনে ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে ফিলিং স্টেশনটি ছাড়াও আশপাশের অন্তত ১০টি বসতবাড়ি ও ২০টির বেশি গাড়ি পুড়ে যায়।
তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ হয়েছে। ফিলিং স্টেশনটির বৈধ অনুমোদন ছিল না বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ দিকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজার-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আর্থিক সহায়তা দেন।
সচিব মো. সাইদুর রহমান খান জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (এডিএম) নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে তদন্ত করে প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ছমিউদ্দিন বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। দগ্ধদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তায় পুলিশ কাজ করছে।”