রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ এই মানববন্ধন করে।
মানববন্ধনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মোতাহের হোসেন বলেন, “১৪ অক্টোবর ২০২৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক স্মারকে সুপারনিউমেরারি পদোন্নতি নিয়মিতকরণ বা সমন্বয় ছাড়া নিয়মিত পদোন্নতি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ফলে সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংক -এ নিয়মিত পদোন্নতি কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে পদোন্নতির সব জটিলতা নিরসন করতে হবে।”
মানববন্ধনে ঐক্য পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেন, ২১ নভেম্বর ২০২২ তারিখে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক চিঠিতে অর্গানোগ্রামের বাইরে সুপারনিউমেরারি পদ সৃষ্টি করে পদোন্নতি প্রদানের সুযোগ নেই বলে জানানো হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন গ্রেডে হাজারো শূন্য পদে সুপারনিউমেরারি পদোন্নতি দেওয়া হয়। কিন্তু এসব পদোন্নতি নিয়মিতকরণের অজুহাতে নিয়মিত পদোন্নতি বন্ধ রাখা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক বলে দাবি করেন তারা। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট দায়েরের পর রুল জারি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
তাদের দাবি, ২০২৪ সালের শূন্য পদ ও ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ কাট-অফ ডেটের ভিত্তিতে প্রত্যেক ব্যাংকের নিজস্ব পদোন্নতি নীতিমালা অনুযায়ী নিয়মিত পদোন্নতি দিতে হবে। পরবর্তী সময়ে প্রণীত কোনো নীতিমালা দিয়ে পূর্ববর্তী বছরের অর্জিত অধিকার খর্ব করা আইনসম্মত নয়।
এছাড়া নতুন অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের পর ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ কাট-অফ ডেট অনুযায়ী দ্বিতীয় দফা পদোন্নতি দিতে হবে এবং প্রতিটি পদোন্নতির কার্যকারিতা ১ জানুয়ারি থেকে গণ্য করতে হবে এ দাবি জানান। বিশেষ করে জনতা ব্যাংকের অর্গানোগ্রাম দ্রুত অনুমোদনের আহ্বান জানানো হয়।
মানববন্ধন থেকে ৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে প্রণীত ‘রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মচারীদের পদোন্নতি নীতিমালা-২০২৫’ সংশোধন অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের আদলে বৈষম্যহীন নতুন নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন ও এসিআর নম্বর বৈষম্যের মতো বিষয়গুলো সংশোধন না করলে কর্মকর্তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হবে না। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।