জাতীয়

২০ রমজানের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের বেতন-বোনাস না দিলে আন্দোলনের হুমকি

রমজান মাসের ২০ তারিখের মধ্যেই বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করার দাবি জানিয়েছেন পোশাক শ্রমিকরা। এ সময়ের মধ্যে বেতন-বোনাস না দিলে শ্রমিকরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশে এ হুমকি দিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতারা।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক নেতা কাজী রুহুল আমিন। সঞ্চালনা করেন কে এম মিন্টু। বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ, শ্রম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় নারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি সাহিদা পারভীন শিখা, শ্রমিক নেতা ইকবাল হোসেন, আমিনুল ইসলাম, জালাল হাওলাদার, সাইফুল্লাহ আল মামুন, জাহানারা বেগম এবং তাজরিন ফ্যাশনের আহত শ্রমিক জরিনা বেগম।

সমাবেশে অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ বলেন, “শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হলেও তাদের ন্যায্য অধিকার বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে।” 

কৃষকদের ঋণ মওকুফের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “শ্রমিকরাও ন্যায্য অধিকার পাওয়ার আশায় আছেন। ঈদের আগে বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।”

শ্রম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, “ঈদের আগে সব শ্রমিকের বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করা মালিকপক্ষ ও সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। মালিকরা যদি তা না দেন, তাহলে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে শ্রমিকরাও পরিবার নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।”

সভাপতির বক্তব্যে কাজী রুহুল আমিন বলেন, “শ্রমিকরা উৎপাদন সচল রেখে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে চায়। কিন্তু, সময়মতো বেতন ও বোনাস না পেলে বাধ্য হয়েই রাজপথে নামতে হবে। শ্রমিকদের আন্দোলনের দায় তাদের নয়, দায় মালিকদের অবহেলার। বেতন পরিশোধে ব্যর্থ মালিকদের বিরুদ্ধে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

সমাবেশ শেষে শ্রমিকদের লাল পতাকা মিছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে শুরু হয়ে পল্টন এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।