চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই শীর্ষ এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে দ্বিতীয় দফা গুলি চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এর আগে গত জানুয়ারিতে একই বাসায় গুলি চালানো হয়েছিল। ওই ঘটনার পর থেকে বাসাটিতে নিয়মিত পুলিশ পাহারা ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মুখোশ পরা চারজন অস্ত্রধারী বাসার পেছনের অংশে এসে একের পর এক গুলি ছোড়ে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীরা একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। একজনের হাতে ছিল দুটি পিস্তল। আরেকজন সাবমেশিনগান ব্যবহার করে। বাকি দুজন চায়নিজ রাইফেল ও শটগান থেকে গুলি ছোড়ে।
গুলি ছোড়ার সময় ওই বাসায় পাঁচ থেকে ছয়জন পুলিশ সদস্য পাহারায় ছিলেন। তবে, হামলাকারীরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করেছেন, বিদেশে অবস্থানরত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারীরা এ হামলায় জড়িত।
তিনি বলেন, “সাজ্জাদ প্রথমে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে ৫ কোটি টাকা চায়। চাঁদা না দেওয়ায় জানুয়ারিতে প্রথম দফা গুলি চালানো হয়। এর পর হোয়াটসঅ্যাপে হুমকিমূলক বার্তাও পাঠানো হয়েছিল।“
মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শনিবার সকালে নামাজ শেষে পরিবারের সদস্যরা বিশ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হঠাৎ গুলির শব্দে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ছয় থেকে সাত রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভূঁইয়া জানিয়েছেন, হামলাকারীরা একটি প্রাইভেট কার ও একটি মোটরসাইকেলে করে আসে। গাড়ি কিছুটা দূরে রেখে হেঁটে বাসার সামনে গিয়ে তারা গুলি চালায়। মুখোশ পরা থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের শনাক্ত করা যায়নি। তবে, সাজ্জাদ আলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. রায়হান ও বোরহানের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র শনাক্তের চেষ্টাও চলছে।
স্মার্ট গ্রুপ দেশের একটি বড় শিল্পগোষ্ঠী। মোস্তাফিজুর রহমানের ছোট ভাই মুজিবুর রহমান ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের বাঁশখালী আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জানুয়ারির হামলার ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, এই প্রকাশ্যে গুলির সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার পর চট্টগ্রাম মহানগরজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।