খেলাধুলা

ফল জয়, অনুভূতি হার—বিধ্বস্ত পাকিস্তান

পাল্লেকেল্লেতে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার ম‌্যাচ শেষ হতে তখনও বাকি ২৫ বল! কিন্তু শ্রীলঙ্কার ইনিংসের ১৫তম ওভারের পঞ্চম বলটাই ম‌্যাচের উত্তেজনা শেষ করে দিল। আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান বিশ্বকাপ থেকে বিদায়। হোটেল রুমে থাকা নিউ জিল‌্যান্ড খবর পেল, তারা যাচ্ছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে।

নিজেদের কাজটা পাকিস্তান ঠিকঠাক করেছে। সুপার এইটের শেষ ম‌্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৫ রানে হারিয়েছে। কিন্তু তাদের জয়ের ব‌্যবধান থাকতে হতো অন্তত ৬৪ রানের। তাহলেই হিসেবের ম‌্যাড়প‌্যাচে নিউ জিল‌্যান্ডকে টপকে তারা যেতে পারত শেষ চারে। শ্রীলঙ্কার দাপটে তা হয়নি।

পাল্লেকেল্লেতে আগে ব‌্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তান ৮ উইকেটে ২১২ রান করে। শ্রীলঙ্কাকে যদি ১৪৭ রানে আটকে রাখতে পারত তাহলে পাকিস্তান নিউ জিল‌্যান্ডকে টপকে রান রেটে এগিয়ে যেতে পারত সেমিফাইনালে। কিন্তু ১৫তম ওভারের পঞ্চম বলে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শানাকা ১ রান নিলে শ্রীলঙ্কার স্কোর হয় ১৪৮। পাকিস্তানের সব আশা শেষ হয়ে যায়।

শানাকা এরপর ঝড়ো ব‌্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে লড়াইয়ে রেখেছিলেন। পাকিস্তানকে পরাজয়ের চোখ রাঙানিও দিচ্ছিলেন। ৬ বলে ২৮ রান লাগত তাদের। শাহীন শাহ আফ্রিদির করা প্রথম ৪ বলে ২২ রান তুলে নেন শানাকা। প্রথম বলে চারের পর পরের তিন বলে তিন ছক্কা। কিন্তু পঞ্চম ও শেষ বল ব‌্যাটেই লাগাতে পারেননি তিনি। তাতে রুদ্ধশ্বাস এক ম‌্যাচের সমাপ্তি হয়।

পাকিস্তান ৫ রানে ম‌্যাচ জিতলেও হাসি ছিল না মুখে। ছিল না প্রাপ্তির কোনো আনন্দ। টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে এক আকাশ হতাশা নিয়ে।

ম্যাচ জিতেও হাসি ফুটল না পাকিস্তান শিবিরে। প্রয়োজনীয় সমীকরণ মেলাতে না পারায় জয়টাও যেন পরিণত হলো হতাশায়। মাঠে লড়াই করে জয় তুলে নিলেও শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারেনি তারা। ফলে জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে বিষাদই গ্রাস করেছে পুরো দলকে।

টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের ব‌্যাটিং নিয়ে প্রবল সমালোচনা হচ্ছিল। কিন্তু এই ম‌্যাচে সবকিছু ঠিকঠাকই হলো। তাদেরকে বড় সংগ্রহ এনে দিয়েছিলেন দুই ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান। ডানহাতি ওপেনার সেঞ্চুরি করেছেন অতি গুরুত্বপূর্ণ ম্যচে। ফখর জামান সেঞ্চুরি পাননি। তবে সমান তালে ঝড় তুলেছেন শাহিবজাদার সঙ্গে। 

দুজন উদ্বোধনী জুটিতে ১৭৬ রান তুলেন। যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ওপেনিংয়ে সর্বোচ্চ রান। এর আগে বাবর ও রিজওয়ানের ছিল ১৫২ রান। এছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও। টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে অবিচ্ছিন্ন ১৭৫ রান তুলেছিলেন।  

পাওয়ার প্লে’ দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন দুজন। ৬৪ রান যোগ করতে পারেন তারা। ১০ ওভারে রান ১০২। শেষ ১০ ওভারে কতো তুলতে পারে সেটাই দেখার। 

শাহিবজাদা ফিফটি পেয়েছেন ৩২ বলে। ফখর ২৭ বলে। শাহিবজাদা এরপর আক্রমণের ধার বাড়িয়ে সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান ৫৯ বলে। ফখরের ইনিংস থেমে যায় ৮৪ রানে। ৪২ বলে ৯ চার ও ৪ ছক্কায় ৮৪ রান করে চামিরার বলে বোল্ড হন। 

সঙ্গী হারানোর পর শাহিবজাদা একা হয়ে গেলেও এবারের টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন। এর আগে নামিবিয়ার বিপক্ষে ১০০ রান করেছিলেন। এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পেলেন তিন অঙ্কের দেখা। ক্রিকেট বিশ্বের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বকাপের এক আসরে জোড়া সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়লেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ক্রিস গেইলের বিশ্বকাপে কেবল ২টি সেঞ্চুরি আছে। দুইটি আলাদা আলাদা আসরে। 

সেঞ্চুরির পর ইনিংসটি শাহিবজাদা বড় করতে পারেননি। ৬০ বলে ১০০ রান তুলে থেমে যান। ইনিংসের শেষ ওভারে তার উইকেট নেন দিলশান মাদুশঙ্কা। সাজঘরে ফেরার আগে ৯ চার ও ৫ ছক্কা এসেছে তার ব্যাট থেকে। 

উদ্বোধনী জুটি ১৫.৫ ওভারে ভাঙার পর রানের গতি কমতে শুরু করে পাকিস্তানের। শেষ ৪ ওভারে প্রত্যাশিত ঝড় উঠেনি। স্কোরবোর্ডে যোগ হয় মাত্র ৩০ রান।

শ্রীলঙ্কার ইনিংসের পুরোটাই ছিল শানাকা-শো। ৩১ বলে ২ চার ও ৮ ছক্কায় ৭৬ রান করে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন তিনি। শেষে তার ব্যাট থেকে একটি চার-ছক্কা আসলেই ম্যাচের ফল পুরোপুরি পাল্টে যেত। চারে নেমে ৫৮ রান করেন পাভান রত্নায়েকে। ৩৭ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কা হাঁকান তিনি। এছাড়া কামিল মিশ্রা ২৬ ও চারিথ আসালাঙ্কা ২৫ রান করেন। 

পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে আবরার আহমেদ ২৩ রানে নেন ৩ উইকেট। 

সেঞ্চুরি তুলে ম‌্যাচ সেরার পুরস্কার পান শাহিবজাদা ফারহান।