সারা বাংলা

ঈশ্বরদীতে দাদি-নাতনি হত্যার ঘটনায় মামলা, তদন্তে ডিবি

পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদি-নাতনিকে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত সাড়ে ১২টার দিকে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় মামলাটি করেন নিহত বৃদ্ধা সুফিয়া বেগমের মেয়ে মর্জিনা খাতুন। ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান এ তথ্য জানান। 

তিনি বলেন, “সুফিয়া বেগমের মেয়ে মর্জিনা খাতুন বাদী হয়ে শনিবার মধ্যরাত সাড়ে ১২টার দিকে ঈশ্বরদী থানায় মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।”

আরো পড়ুন: দাদি-নাতনি হত্যার ক্লু পাওয়া গেছে: পুলিশ 

ওসি মমিনুজ্জামান বলেন, “যেহেতু, এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর, সেহেতু মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে।”

এদিকে, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে শনিবার রাব্বি মন্ডল ও শরিফুল ইসলাম নামে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা ঈশ্বরদী উপজেলার ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

আরো পড়ুন: পাবনায় দাদি-নাতনিকে হত্যায় দুইজন আটক 

ওসি মমিনুজ্জামান বলেন, ‌“তাদের থানা হেফাজতে রেখে বিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে ও জিজ্ঞাসাবাদে জোড়া হত্যার ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। খুব শিগগির মামলার রহস্য উদঘাটন হবে।”

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে ঈশ্বরদী উপজেলার ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামে কান্নাকাটির শব্দ শুনে স্থানীয়রা বাইরে বের হলেও কিছুক্ষণ পর শব্দ থেমে গেলে সবাই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাড়ির উঠানে সুফিয়া বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা। এ সময় নাতনি জামিলাকে খুঁজে না পেয়ে চারদিকে অনুসন্ধান শুরু হয়।

বাড়ি থেকে কিছু দূরের সরিষা ক্ষেতে বিবস্ত্র অবস্থায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন এলাকাবাসী। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহত সুফিয়া বেগম ওই গ্রামের মৃত নাজিম উদ্দিন খাঁ’র স্ত্রী। আর জামিলা আক্তার উপজেলার কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসা দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবার নাম জয়নাল উদ্দিন খাঁ। দাদি ও নাতনি একই বাড়িতে থাকতেন। 

রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার মো. শামীম হোসেন ও পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও হত্যার রহস্য উদঘাটনের আশ্বাস দেন।