দেহঘড়ি

ইফতারে তরমুজ: সত্যিই কী স্বাস্থ্যের জন্য ভালো?

সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের সময় শরীর নেতিয়ে পড়ে। এই সময়ে শরীর সুস্থ করে তোলার জন্য দ্রুত শক্তি জোগাবে, পানিশূন্যতা দূর করবে এবং হজমে সহায়তা করবে—এমন খাবার গ্রহণ করা উচিত। অনেকেই মনে করেন, তরমুজ ঠিক এমনই একটি ফল—যা ইফতারের তালিকায় সহজেই জায়গা করে নিতে পারে।

ক্লান্তি দূর করে শরীর চাঙা রাখে অনেক সময় অতিরিক্ত ক্লান্তির পেছনে পানি ও ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি কাজ করে। তরমুজে রয়েছে প্রচুর পানি, পাশাপাশি পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম। পটাশিয়াম পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে। তাই ইফতারে এক কাপ পরিমাণ তরমুজ খেলে শরীর দ্রুত সতেজ হয়ে ওঠে এবং ইফতারের পরের কাজগুলো সহজে সম্পন্ন করা যায়।

ব্যায়ামে স্বস্তি আনে রমজানে অনেকেই রাতে হালকা ব্যায়াম করেন। পানিশূন্যতার কারণে ব্যায়ামের সময় পেশিতে টান পড়ার ঝুঁকি থাকে। তরমুজে থাকা পানি ও খনিজ উপাদান এই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া তরমুজে রয়েছে সাইট্রুলিন নামের একটি উপাদান, যা পেশির টান কমাতে এবং হৃদ্‌যন্ত্রের সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তাই ইফতারে তরমুজ খেলে রাতের ব্যায়াম হয় আরও আরামদায়ক।

হজমে সহায়ক ও পেটের জন্য উপকারী ইফতারে ভাজাপোড়া খাবার খাওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে, যা হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তরমুজ সহজপাচ্য এবং অন্যান্য খাবার হজমেও সহায়তা করে। এক কাপ তরমুজ পেট কিছুটা ভরিয়ে দেয়, ফলে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাওয়ার প্রবণতা কমে। এতে থাকা পানি ও অল্প আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধেও সহায়ক।

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় তরমুজ ভিটামিন সি–এর ভালো উৎস। আবহাওয়ার পরিবর্তন ও বিভিন্ন সংক্রমণের সময় এই ভিটামিন রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। নিয়মিত তরমুজ খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।

ত্বক রাখে প্রাণবন্ত তরমুজে থাকা পানি, ভিটামিন সি ও ভিটামিন এ ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে ত্বক রুক্ষ ও মলিন হয়ে পড়ে। ইফতারে প্রতিদিন এক কাপ তরমুজ খেলে ত্বক থাকবে মসৃণ, উজ্জ্বল ও সতেজ—ঈদের আগেই মিলবে প্রাকৃতিক আভা।

সুতরাং ইফতারে তরমুজ খাওয়া নিঃসন্দেহে একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।