বিদায় বলেও যদি এমন হয়! সাদা বলের ক্রিকেটকে শেষবারের মতো ছুঁয়ে দেখেই যেন কিংবদন্তির স্বাক্ষর রেখে গেলেন অ্যালিসা হিলি। হোবার্টে ভারতের বিপক্ষে তৃতীয় একদিনের ম্যাচে অধিনায়কোচিত ১৫৮ রানের ঝড়ো ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে তুলে দিলেন ৭ উইকেটে ৪০৯ রানের অবিশ্বাস্য সংগ্রহে।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিলেন হিলি। ৯৭ বলে ১৫৮; সংখ্যাটা যেমন চোখ ধাঁধানো, তার চেয়েও বেশি দৃষ্টিনন্দন ছিল ইনিংসের গতি ও শটের বৈচিত্র্য। ২৭টি চার ও দুটি ছক্কায় ভারতীয় বোলারদের ওপর কার্যত তাণ্ডব চালান তিনি। ছোট লেন্থ বা ফুলটস- কোনোটাই রেহাই পায়নি।
সত্তরের ঘরে পৌঁছে সামান্য ক্র্যাম্পে ভুগলেও ছন্দ হারাননি হিলি। বরং গতি বাড়িয়েছেন। দীপ্তি শর্মার বলে চমৎকার পুল শটে নিজের অষ্টম একদিনের শতক পূর্ণ করেন তিনি। তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পরপরই শ্রী চারণির এক ওভার থেকে তুলে নেন ২৩ রান- সেখানেই ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায় ভারতের।
৯৮ থেকে ১৫০; মাত্র ১৬ বলে! এমন বিস্ফোরক রূপান্তর বিরলই বলা যায়। একসময় দ্বিশতক আর রেকর্ডের স্বপ্নও উঁকি দিচ্ছিল। তবে ইনিংসের ৩৭তম ওভারে ফুলটস রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে মিস করেন, হাসিমুখে মাথা নেড়ে ফেরেন সাজঘরে। বিদায়ের মুহূর্তেও ছিল স্বস্তির হাসি- কাজ যে তিনি সেরে ফেলেছেন!
হিলির ঝড়ো ইনিংসে ভালো সঙ্গ দিয়েছেন জর্জিয়া ভল ও বেথ মুনি। ভল খেলেছেন ৫২ বলে ৬২ রানের কার্যকর ইনিংস। তবে শেষভাগে আলাদা করে উজ্জ্বল মুনি- ৮৪ বলে অপরাজিত ১০৬। হিলির সঙ্গে শতরানের জুটি, পরে নিজেও শতক পূর্ণ করেন নিখুঁত টাইমিংয়ে। শেষ ওভারে ৯৫ রানে ছিলেন, সেখান থেকে পরপর রান নিয়ে দলকে ৪০০ পেরিয়ে দেন, এরপর পুল শটে শতক। ১০টি চার ও একটি ছক্কায় নিঃশব্দ অথচ দাপুটে ইনিংস।
৪০৯- সংখ্যাটা শুধু বড় নয়, বার্তাও স্পষ্ট। ৩৫০ এর বেশি রান তাড়া দিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে কখনও হারাতে পারেনি কোনো দল। বিদায়ী ম্যাচে হিলি যেন সেটাই আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন- মহানরা শেষটাও করেন মহিমান্বিত করে।