ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার খবরে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবার (১ মার্চ) দেশের পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক বড় ধরনের পতন হয়েছে। লেনদেন শুরুর পরপরই অধিকাংশ খাতের শেয়ারের দাম কমে যাওয়া সূচকের পতন আরো বেড়ে যায়। যৌথ হামলার খবরে আতঙ্কে এক শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দেয়। ফলে সূচক পতনের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।
এদিন ডিএসই ও সিএসইতে আগের কার্যদিবসের চেয়ে টাকার পরিমাণে লেনদেন কমেছে। একইসঙ্গে উভয় পুঁজিবাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম কমেছে।
বাজার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অনেক দিন ধরে পুঁজিবাজারে লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান দেখা গেলেও লেনদেনের শেষদিকে তা পতনে রূপ নেয়। তবে রবিবার সকালে লেনদেনে শুরুর এক মিনিটের মধ্যে প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইতে সূচকের অস্বাভাবিক বড় পতন ঘটে।
এ সময় ডিএসইএক্স সূচক ২২৩.৪৯ পয়েন্ট করে অবস্থান করে ৫ হাজার ৩৭৬.৭৭ পয়েন্টে। তবে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূচক পতনের প্রবণতা কিছুটা কমে আসে। একইভাবে সিএসইতে সূচকের পতনমুখী প্রবণতার মধ্যে দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত উভয় পুঁজিবাজারে সূচকের বড় পতন অব্যাহত ছিল।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১৩৮.৫৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৪৬১.৭০ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াসূচক ২৬.৫৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৯.৬৫ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ৫২.০৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১৭.৩৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
ডিএসইতে মোট ৩৮৯টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে ৩০টি কোম্পানির, কমেছে ৩৫৩টির এবং অপরিবর্তিত আছে ৬টির।
এদিন ডিএসইতে মোট ৭৭৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়ে ছিল ৯৪৭ কোটি ২৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সিএসসিএক্স সূচক আগের দিনের চেয়ে ১৬৫.৪১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৯ হাজার ৪২১.৯২ পয়েন্টে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৪৫.৮৭ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৩৫১.২৬ পয়েন্টে, শরিয়াসূচক ১১.৬৫ পয়েন্ট কমে ৯২২.১৯ পয়েন্টে এবং সিএসই ৩০ সূচক ২৮৩.৯৩ পয়েন্ট বেড়ে ১৩ হাজার ৯০৮.৬১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সিএসইতে মোট ১৮৪টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে ৩৩টি কোম্পানির, কমেছে ১৩৭টির এবং অপরিবর্তিত আছে ১৪টির।
এদিন সিএসইতে ১২ কোটি ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক মো. আল-আমিন রাইজিংবিডিকে বলেন, “ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার খবরে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ফলে তারা শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন। হঠাৎ শেয়ার বিক্রির চাপ বেড়ে যাওয়া পুঁজিবাজারে সূচকে বড় পতন ঘটেছে।”
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী প্রথম কার্যদিবস রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ২০০.৭২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টে। আর সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৮৪.৩৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ১৫ হাজার ৫১৮ পয়েন্টে।