আন্তর্জাতিক

ইরানের ওপর হামলা চালাতে ট্রাম্পকে একাধিকবার ফোন করেছিলেন সৌদি যুবরাজ

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একাধিক ব্যক্তিগতভাবে ফোনে করে ইরানের উপর হামলার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। অবশ্য প্রকাশ্যে তিনি কূটনীতির পক্ষে নিজের অবস্থান জানিয়েছিলেন। রবিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

জানুয়ারিতে যুবরাজ জানিয়েছিলেন, তিনি তার দেশের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ইরানের উপর হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেবেন না। সৌদি আরব ইরানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করবে। একইসঙ্গে তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

শনিবার ইরানের সামরিক ও সরকারি স্থাপনা লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ সামরিক হামলা চালায়। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবের সঙ্গে সপ্তাহব্যাপী আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই আলোচনায় তৃতীয় পক্ষ হিসেবে ছিল ইসরায়েল।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চারজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত মাসে ট্রাম্পকে একাধিক ব্যক্তিগত ফোনে মার্কিন হামলার পক্ষে কথা বলেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার যখন ইরানের নেতাদের সাথে দেশটির পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, ওই সময় সৌদি আরব আক্রমণের জন্য চাপ দেয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ওয়াশিংটনকে যখন তেহরানের ওপর হামলার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন সৌদি যুবরাজ, তখন তিনি আবার এক বিবৃতি জারি করে জানান, ইরানের উপর আক্রমণের জন্য সৌদি আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবেন না তিনি।

মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে তার আলোচনায় সৌদি নেতা সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তম সামরিক উপস্থিতির পরে যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনই আক্রমণ না করে তবে ইরান আরো শক্তিশালী এবং বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।

যুবরাজের এই অবস্থান আরো দৃঢ় করে তোলেন তার ভাই সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান। তিনি জানুয়ারিতে ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছিলেন। ওই সময় তিনি আক্রমণ না করার নেতিবাচক দিক সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন বলে সূত্র জানিয়েছে।