আন্তর্জাতিক

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদও নিহত, দাবি পশ্চিমা মিডিয়ার

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন বলে ইরানের সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে পশ্চিমা মিডিয়ায় প্রচার করা হয়েছে। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যমগুলো সবার আগে এই খবর প্রকাশ করেছে। অবশ্য ইরানের কোনো কর্তৃপক্ষ তথ্যটির সত্যাসত্য নিয়ে কোনো কথা বলেনি। 

ক্ষমতা ছাড়ার পর তেহরানের নরমাক এলাকায় বসবাস করছিলেন আহমাদিনেজাদ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) হামলার প্রথম দিনেই নরমাক এলাকায় একাধিকবার আকাশপথে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। সে সময়ই তিনি নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ইসরােয়েলি খবরের বরাত দিয়ে লিখেছে, এসব হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। 

ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো অনেক খবর তাৎক্ষণিকভাবে জানায় না। আহমাদিনেজাদের নিহতের তথ্যও তারা চেপে রেখেছে কি না, তা বলা মুশকিল।

রবিবারও (১ মার্চ) ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা অব্যাহত ছিল। এর জবাবে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় তেহরান।

৬৯ বছর বয়সি আহমাদিনেজাদ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার শাসনামলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কট্টর রক্ষণশীল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন আহমাদিনেজাদ।

তবে তার মৃত্যুর বিষয়ে ইরান সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। নরমাক এলাকায় তার বাড়ির কাছের হেদায়াত বিদ্যালয়ে শনিবারের হামলায় অন্তত দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়।