খেলাধুলা

মেসির জোড়া গোলে ইতিহাস ছুঁয়ে মায়ামির প্রত্যাবর্তন

দুই গোলের ঘাটতি, প্রতিপক্ষের গ্যালারির উল্লাস আর নিজেদের অসংলগ্ন শুরু; সবকিছু মিলিয়ে রাতটা যেন ইন্টার মায়ামির জন্য দুঃস্বপ্নই হতে যাচ্ছিল। কিন্তু যেখানে লিওনেল মেসি আছেন, সেখানে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত গল্প শেষ হয় না। আর্জেন্টাইন মহাতারকার জোড়া গোল আর টেলাস্কো সেগোভিয়ার অনবদ্য নৈপুণ্যে ওরলান্ডো সিটিকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিল মায়ামি।

এই জয়ের বিশেষত্ব শুধু স্কোরলাইনেই নয়। ওরলান্ডোর মাঠে এটি মায়ামির ইতিহাসে প্রথম জয়। এর আগে টানা ৯ সফরে ব্যর্থ হয়েছিল তারা।

১৮ মিনিটে ইভান অ্যাঙ্গুলোর পাস থেকে গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন মার্কো পাসালিচ। মায়ামির বিপক্ষে এটি ছিল তার টানা চতুর্থ ম্যাচে গোল। ২৪ মিনিটে মার্টিন ওজেদা ব্যবধান দ্বিগুণ করলে বিরতির আগ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছিল ওরলান্ডোর হাতে।

প্রথমার্ধে মায়ামি বল দখলে এগিয়ে থাকলেও আক্রমণে ছিল ছন্দহীন। শটের সংখ্যা ৬ হলেও লক্ষ্যে ছিল মাত্র ১টি।

দ্বিতীয়ার্ধে যেন নতুন দল হয়ে মাঠে নামে মায়ামি। ৪৯ মিনিটে ২০ বছর বয়সী মাতেও সিলভেট্টি নিজের প্রথম গোল করে ব্যবধান কমান। আক্রমণ গড়ে দেন সেগোভিয়া ও ফাকুন্দো মুরা।

৫৭ মিনিটে সেগোভিয়ার নিখুঁত পাস ধরে সমতা ফেরান মেসি। এটি চলতি মৌসুমে তার প্রথম গোল। সেই মুহূর্ত থেকেই ম্যাচের গতি বদলে যায়।

৮৫ মিনিটে একক প্রচেষ্টায় গোল করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন সেগোভিয়া। ডিফেন্ডার হয়েও আক্রমণে উঠে এসে যে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন, সেটিই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

৯০ মিনিটে বাঁকানো দুর্দান্ত ফ্রি- কিক থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন মেসি। সেই গোলের মাধ্যমে তিনি লিগে প্রথম ৫৫ ম্যাচে ৫২ গোলের অনন্য রেকর্ড গড়লেন। গড়ে প্রতি ম্যাচে প্রায় ০.৯৫ গোল।

মায়ামি পুরো ম্যাচে বল দখলে ছিল ৬১ শতাংশ সময়। লক্ষ্যে শট নেয় ৯টি, যার ৪টিই জালে। দ্বিতীয়ার্ধে তাদের আক্রমণের গতি ও পাসের নিখুঁততা ছিল প্রথমার্ধের তুলনায় দ্বিগুণ।

গত ম্যাচে ০-৩ ব্যবধানে হারের পর দলটি চাপে ছিল। এই জয় শুধু পয়েন্টই নয়, আত্মবিশ্বাসও ফিরিয়ে দিল। বিশেষ করে সামনে কঠিন সূচি থাকায় এই প্রত্যাবর্তন দলের মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ।

মেসি আবারও দেখালেন- বয়স বাড়ে, কিন্তু শ্রেণি কমে না। আর মায়ামি জানিয়ে দিল, তারা এখনও লড়াইয়ে আছে।