পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তালিকা অনুযায়ী সিলেটের ১৩ উপজেলায় ১১৩টি খাল রয়েছে। কাগজে-কলমে খালের নাম থাকলেও দখল-দূষণ আর ভরাটে বেশিরভাগই নিশ্চিহ্ন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার এসব খাল খননের উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।
নতুন সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিকভাবে সিলেটের ৯১টি খাল খননের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এসব খালের মধ্যে রয়েছে সিলেটের ছয়টি আসনের ছয়জন সংসদ সদস্যদের চাহিদা অনুযায়ী ১২টি। বাকি ৭৯টি খাল পাউবো নির্বাচন করবে।
সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী তাদের নিজ আসন থেকে দুটি করে খালের নাম জমা না দেওয়ায় এখনো তালিকাটি চূড়ান্ত হয়নি। পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলীয় কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সিলেট জেলায় কতটি খাল রয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান এখনো নেই। এ নিয়ে হয়নি কোনো জরিপও। পাউবো বলছে, সম্প্রতি তাদের পর্যবেক্ষণে সিলেটে অন্তত ১১৩টি খালের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। সেগুলো তারা তালিকাভুক্ত করেছে। তালিকার অধিকাংশ খালের তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও দখল ও অবৈধ স্থাপনার কারণে পানির প্রবাহ প্রায় বন্ধ। তবে, এই তালিকা পূর্ণাঙ্গ জরিপভিত্তিক নয় বলছে তারা।
তথ্য অনুযায়ী, সিলেট সদর উপজেলায় ছয়টি, কানাইঘাট উপজেলায় ২০টি, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় পাঁচটি, বালাগঞ্জ উপজেলায় পাঁচটি, দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় পাঁচটি, ওসমানীনগর উপজেলায় পাঁচটি, গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ৯টি, বিয়ানীবাজার উপজেলায় ১১টি, জকিগঞ্জ উপজেলায় ২০টি, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ১০টি, জৈন্তাপুর উপজেলায় পাঁচটি, গোয়াইঘাট উপজেলায় ছয়টি, বিশ্বনাথ উপজেলায় চারটি খাল রয়েছে। পাউবো সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবকটি খালই খননযোগ্য।
পরিবেশকর্মী সালেহীন চৌধুরী শুভ জানান, সঠিক পরিসংখ্যান ছাড়া খনন উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে সুফল দেবে না। তার মতে, প্রথমে সমন্বিত জরিপের মাধ্যমে খালের প্রকৃত সংখ্যা, দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও দখল পরিস্থিতি নির্ধারণ করা জরুরি। এরপর অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করে খনন কার্যক্রম হাতে নেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, “খাল কতটি, কোনটি কার্যকর, কোনটি পুরোপুরি বিলুপ্ত এই চিত্র পরিষ্কার না হলে প্রকল্পভিত্তিক খনন টেকসই হবে না। এতে অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল নাও মিলতে পারে। খাল শুধু খনন করলেই হবে না, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দখল প্রতিরোধের ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”
সিলেট শহরতলীর দাশপাড়া এলাকার সুমন আহমদ বলেন, “আগে যেসব খাল বা ছড়া দিয়ে বর্ষার পানি দ্রুত সরে যেত, সেগুলোর অনেকগুলো এখন আর দৃশ্যমান নয়। কোথাও ভরাট করে স্থাপনা গড়ে উঠেছে, কোথাও আবর্জনা জমে প্রবাহ বন্ধ। এগুলো এখন উদ্ধার করা কঠিন তবে অসম্ভব নয়, প্রশাসন সরকার চাইলে সবই সম্ভব।”
সংক্ষুব্দ নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক আব্দুল করিম কিম বলেন, “এতোদিন খাল খননের কোনো উদ্যোগই ছিল না। এখন যেহেতু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটা খুবই ভালো খবর। খাল খনন হলে শুধু সিলেটের কৃষিখাতের উন্নয়ন হবে না, বন্যা থেকেও বাঁচবে সিলেট।”
সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস বলেন, “সরকারের ১৮০ দিনে কর্মসূচির আওতায় প্রতি উপজেলায় খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৯১টি খাল খননের জন্য প্রস্তবনায় রাখা হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “সিলেটের সব উপজেলা থেকে দুটি করে খালের নাম দিতে সংসদ সদস্যদের বলা হয়েছে। দুইজন মন্ত্রীর প্রস্তাব করা নামগুলো পাওয়ামাত্র তালিকা চূড়ান্ত করে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব।”