অর্থনীতি

বিএসইসি পুনর্গঠন ইস্যুতে পুঁজিবাজারে বড় পতন

দেশের পুঁজিবাজারে ফের বড় ধনের পতন ঘটেছে। ইরানে হামলার খবরে গত রবিবার (১ মার্চ) পুঁজিবাজারে বড় পতন হয়, ঠিক তেমনি মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস তার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। তবে এদিনে পতনের ইস্যু যুদ্ধ নয়, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠন। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে পুঁজিবাজারে পতন ঘটাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আগের কার্যদিবসের চেয়ে টাকার পরিমাণে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। তবে উভয় পুঁজিবাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম কমেছে।

বাজার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অনেক দিন ধরে পুঁজিবাজারে লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান দেখা গেলেও লেনদেনের শেষদিকে তা পতনে রূপ নেয়। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে সূচকের পতনমুখী প্রবণতায় লেনদেন শুরু হয়। এরপর আর সূচক ঊর্ধবমুখী হয়নি। লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত উভয় পুঁজিবাজারে সূচকের পতনমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুদ্ধে তেল ও জ্বালানির সংকট ও দাম বাড়তে পারে— এমন শঙ্কায় এখাতের তালিকাভুক্ত সব কোম্পানিসহ আরো একাধিক খাতের সব শেয়ারের দাম কমেছে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ২০৮.৯৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৩২৫.০৬ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াসূচক ৩৬.৩৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬৩.৩৭ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ৮৫.৭২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৫০.১২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

ডিএসইতে মোট ৩৯১টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৩১টির, কমেছে ৩৪৯টির এবং অপরিবর্তিত আছে ১১টির।

এ দিন ডিএসইতে মোট ৮৮৫ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়ে ছিল ৭৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সিএসসিএক্স সূচক আগের দিনের চেয়ে ২৬৯.৯৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৯ হাজার ২২৮.৬৫ পয়েন্টে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪১৪.১৯ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৮৫.৮৪ পয়েন্টে, শরিয়াসূচক ২৫.৯৮ পয়েন্ট কমে ৯০১.২৮ পয়েন্টে এবং সিএসই ৩০ সূচক ৪৭৮.৯২ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৪৭০.৯২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সিএসইতে মোট ২১৪টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে ৪৫টি কোম্পানির, কমেছে ১৫৩টির এবং অপরিবর্তিত আছে ১৬টির।

এ দিন সিএসইতে ২৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের অধ্যাপক মো. আল-আমিন রাইজিংবিডি ডটকম-কে বলেন, ‘‘পুঁজিবাজারে যে ধরনের পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে যুদ্ধের ইস্যু মনে হচ্ছে না। বিএসইসির পরিবর্তন যারা ত্বরাম্বিত করতে চায়, মার্কেট সংশ্লিষ্ট কোনো একটি চক্র বাজারে ভীতি তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে এ কাজটা করছে বলে মনে হচ্ছে। তারা মূলত বিএসইসিতে পরিবর্তন চায় এমন একটি ইস্যু তৈরি করে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা চেষ্টা করছে। ইরানে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের সঙ্গে বাংলাদেশের তেমন কানেক্টিভিটি নেই। যুদ্ধের সঙ্গে কানেকশন থাকলে সোমবার তো বাজার ঘুরে দাঁড়াত না।”

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী প্রথম কার্যদিবস রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ২০০.৭২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টে। আর সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৮৪.৩৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ১৫ হাজার ৫১৮ পয়েন্টে।