জাতীয়

সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর দাবি

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ দ্রুত আইনে পরিণত করার দাবি জানিয়েছে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো। তারা বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশটি পাস না হলে এটি কার্যকারিতা হারাবে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইনে রূপান্তর করার দাবি’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সংসদে উপস্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশটি পাস না হলে তা বাতিল হয়ে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সমন্বয়ক ডা. অরুনা সরকার। তিনি বলেন,“টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ অনুযায়ী দেশে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় ২ কোটি ১৩ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহার করে। প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় তামাকজনিত রোগে, যা দৈনিক গড়ে ৫৪৫ জন। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে পরোক্ষ ধূমপানও সরাসরি ধূমপানের মতোই ক্ষতিকর। তাই নাগরিকদের সুরক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োজন।”

তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশ ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) স্বাক্ষরকারী প্রথম দেশগুলোর একটি।এর ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করা হয়। এবারের সংশোধনীতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আরো কার্যকর পদক্ষেপ যুক্ত করা হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে সব পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান রাখার বিধান বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া বিক্রয়স্থলে তামাকপণ্যের প্রদর্শন, সব ধরনের বিজ্ঞাপন ও প্রচার নিষিদ্ধ করা, সিগারেটের প্যাকেটে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও খেলাধুলার স্থানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকপণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন,“আইনটি পাস হলে অধূমপায়ীরা পরোক্ষ ধূমপান থেকে সুরক্ষা পাবেন এবং তামাকজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু উল্লেখযোগ্য হারে কমবে।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “আইনটি পাস না হলে ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হতে পারে।”

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দি রুরাল পূয়র (ডরপ), উবিনীগ ও পিপিআরসির প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।