ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সাধারণ শিক্ষার্থী ও নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদলের 'সন্ত্রাসী' হামলার প্রতিবাদে আজ ব্যাপক বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এই সমাবেশ থেকে ছাত্রদলকে কড়া হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়।
পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর থেকে কয়েক শতাধিক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাস ও হলপাড়ার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে মধুর ক্যান্টিন হয়ে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাবি শিবিরের সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান। তিনি তার বক্তব্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলো পুনরায় সচল হচ্ছে এবং ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের প্রেতাত্মাদের আস্ফালন বাড়ছে। অতীতে ছাত্রদল নিজেদের মধ্যে মারামারি করলেও এখন তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের টার্গেট করছে। হামলা করে দায় শিবিরের ওপর চাপানোর অপচেষ্টা নতুন কিছু নয়।”
শাখা সেক্রেটারি কাজী আশিক অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “রমজান মাসেও ছাত্রদল তাদের সহিংস কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে।”
তিনি ছাত্রদলের উদ্দেশে বলেন, "হল দখল ও সন্ত্রাসের কারণে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের যে দশা হয়েছে, ছাত্রদলেরও একই পরিণতি হবে। আমাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না।”
অন্যদিকে, সাংগঠনিক সম্পাদক মু. সাজ্জাদ হোসাইন খাঁন মনে করিয়ে দেন যে, ক্যাম্পাসে একসময় 'গণরুম ও গেস্টরুম' সংস্কৃতির সূচনা করেছিল ছাত্রদলই। ৫ আগস্টের বিপ্লবের পর শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের দখলদারিত্ব মেনে নেবে না এবং গণবিচ্ছিন্ন হলে ছাত্রদলকেও 'লাল কার্ড' দেখানো হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সমাবেশের মূল দাবিগুলো হলো, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে হামলার ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত, হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হল দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চিরতরে বন্ধ করা।
সমাবেশ শেষে বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে ছাত্রশিবির রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামতে দ্বিধা করবে না।